ব্যবসায় উদ্যোগ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
পরিবেশ দূষণ কমাতে জনাব নিজামুল পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রীকে। পুনঃব্যবহারযোগ্য করার উপায় খুঁজতে থাকেন। সে চিন্তা থেকে তিনি রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় পরিত্যক্ত প্লাস্টিক থেকে শিশুদের বিভিন্ন খেলনা তৈরির কারখানা স্থাপন করলেন। তার কারখানায় কর্মচারী হিসেবে ১৫ জন বেকার যুবককে নিয়োগ দিয়েছেন। উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি বিদেশেও রপ্তানি করছেন। এভাবে তিনি অল্প সময়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠলেন। তার কর্মকান্ডের ফলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
- ক)(1)
একমালিকানা ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব নিজামুলের প্লাস্টিক থেকে খেলনা তৈরি উদ্যোক্তার কোন গুণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জনাব নিজামুলের মতো উদ্যোক্তার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে ব্যবসায় একজন ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয় এবং যার সমস্ত লাভ-লোকসান ঐ ব্যক্তি একাই বহন করে, তাকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
- খ)
দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা রাজনৈতিক অস্থিরতা।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং ব্যবসায় কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। ফলে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা নতুন কিছু করতে আগ্রহ হারান। বিনিয়োগ ও উৎপাদন কমে যায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে।
- গ)
জনাব নিজামুলের প্লাস্টিক থেকে খেলনা তৈরি উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী শক্তি বা সৃজনশীলতা গুণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে উদ্যোক্তা নতুন পণ্য বা নতুন উৎপাদন কৌশল তৈরি করেন। নিজামুল পরিত্যক্ত প্লাস্টিককে ফেলে না দিয়ে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে শিশুদের খেলনা তৈরির নতুন উপায় বের করেছেন। এই নতুন চিন্তা ও তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা উদ্ভাবনী শক্তির পরিচায়ক। এর ফলে তার পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবং তিনি সফল হয়েছেন।
- ঘ)
জনাব নিজামুলের মতো উদ্যোক্তা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: উদ্দীপকে তিনি ১৫ জন বেকার যুবককে নিয়োগ দিয়েছেন। এতে বেকারত্ব কমে এবং মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়ে।
২. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: তার উৎপাদিত খেলনা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
৩. সম্পদের সদ্ব্যবহার ও পরিবেশ সংরক্ষণ: পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের ফলে সম্পদের অপচয় কমে এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস পায়।
৪. দক্ষ মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন: উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যুবকরা দক্ষতা অর্জন করে এবং সমাজবিরোধী কাজ থেকে দূরে থাকে।সুতরাং, নিজামুলের মতো উদ্যোক্তা কর্মসংস্থান, রপ্তানি ও পরিবেশ সুরক্ষার মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও