বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

বিদ্রোহ স্বতঃস্ফূর্ত, স্বতোৎসারিত, সর্বগ্রাসী ও সংক্রামক। বিদ্রোহ করতে হলে সকল অনিয়ম, অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জগতের মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বলতে হবে- 'আমি কোনো অসত্যের কাছে মাথা নত করব না।'

  1. ক)

    'আমার পথ' প্রবন্ধে নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতে শেখাচ্ছিলেন কে?

    (1)
  2. খ)

    "ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো" ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটির ভাবনা 'আমার পথ' প্রবন্ধের সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের লেখকের সম্পূর্ণ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।"-মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আমার পথ' প্রবন্ধে নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতে শেখাচ্ছিলেন স্বয়ং মহাত্মা গান্ধী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত বাক্যটির মাধ্যমে লেখক কপট ও নিষ্ক্রিয় বিনয়ের চেয়ে সত্যনিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয় বা পৌরুষদীপ্ত অহংকারকে শ্রেয় বলে অভিহিত করেছেন।

    অনেক সময় মানুষ মাত্রাতিরিক্ত বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকে ছোট করে ফেলে এবং এর ফলে নিজের ভেতরের তেজ বা পৌরুষ নষ্ট হয়ে ভীরুতা ও পরনির্ভরশীলতা জন্ম নেয়। এই ভণ্ড বা অতিরিক্ত বিনয় মানুষকে দুর্বল ও পরপদাবনত করে তোলে। লেখক মনে করেন, ভণ্ড বিনয় প্রদর্শনের চেয়ে নিজের সত্যকে আঁকড়ে ধরে অহংকারের পৌরুষে বলীয়ান থাকা অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও কল্যাণকর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটির মূল ভাবনা সকল অন্যায়, শোষণ ও অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীন বিদ্রোহ প্রকাশের দিক থেকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম সত্যের প্রকাশ ও অসত্যের বিরোধিতাকে জীবনের প্রধান ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, যা অসত্য, অন্যায় ও ভণ্ডামি—তার বিরুদ্ধে কোনো ভয় না পেয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁড়াতে হবে এবং নিজের আত্মাকে চিনে সত্যের পথে অবিচল থাকতে হবে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, বিদ্রোহের স্বরূপ তুলে ধরে বলা হয়েছে যে, বিদ্রোহ স্বতঃস্ফূর্ত ও সংক্রামক। সেখানে সমাজের সব অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে অসত্যের কাছে মাথা নত না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। সত্যের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে অসত্যকে অস্বীকার করার এই আপসহীন মনোভাবই উদ্দীপক এবং 'আমার পথ' প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের লেখকের সম্পূর্ণ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেনি"—মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে কেবল অন্যায়, অনিয়ম ও অসত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং বিদ্রোহ করার ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে। অসত্যের কাছে মাথা নত না করার দৃপ্ত অঙ্গীকার এখানে ফুটে উঠেছে।

    কিন্তু 'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুলের ভাবনার পরিধি কেবল বিদ্রোহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক। প্রবন্ধে লেখক আত্মাকে চেনার কথা বলেছেন, স্বাবলম্বন ও আত্মবিশ্বাসের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যেন আত্মবিশ্বাস কখনো দাম্ভিকতা বা মিথ্যা অহমিকায় রূপ না নেয়। এছাড়া তিনি কোনো ব্যক্তিকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের পথ নিজে তৈরি করার কথা বলেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রবন্ধে নজরুল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলেছেন—হিন্দু-মুসলমান ভেদ ভুলে ধর্মের চেয়ে মানবতার মিলনকে বড় করে দেখেছেন।

    উদ্দীপকে কেবল অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে; কিন্তু প্রবন্ধে উল্লিখিত আত্মোপলব্ধি, অতিরিক্ত বিনয়ের ভণ্ডামি পরিহার, অন্ধ গুরুভক্তি ত্যাগ এবং পরধর্মসহিষ্ণুতা ও অসাম্প্রদায়িকতার গভীর দর্শন উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং, উদ্দীপকে লেখকের আংশিক মনোভাবের প্রকাশ ঘটলেও সম্পূর্ণ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন