বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: মাহমুদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
দৃশ্যপট-২: মাহমুদের বড় ভাই ফ্রান্সে থাকে। সেখানে থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে পাঠাতেন। তার বাবা ও বোন মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও অন্যান্য সেবা প্রদানসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সহায়তা করেন।

  1. ক)

    'চরমপত্র' কী?

    (1)
  2. খ)

    অসহযোগ আন্দোলন কেন সংঘটিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ মুক্তিযুদ্ধে কোন শ্রেণির অবদানকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মাহমুদের পরিবারের সদস্যদের মতো ব্যক্তিবর্গের ভূমিকার কারণেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে— উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    'চরমপত্র' হলো এম. আর. আখতার মুকুল রচিত ও পঠিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান, যা মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াত।

  2. খ)

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করেন। তিনি ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চের জাতীয় পরিষদ অধিবেশন ১লা মার্চ স্থগিত ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে বাঙালি ফেটে পড়ে এবং ৭ই মার্চের ভাষণের পর শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।

  3. গ)

    দৃশ্যপট-১-এ মাহমুদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এটি মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রী (শিক্ষার্থী) শ্রেণির অবদানকে নির্দেশ করছে।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল শিক্ষার্থীরা। তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া কিশোররাও যুদ্ধে অংশ নেয়। তারা প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যায়। মাত্র তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ ও হালকা অস্ত্র নিয়ে তারা অসীম সাহসে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাহমুদের ভূমিকা ঠিক সেই শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধাদের মতো।

  4. ঘ)

    মাহমুদের পরিবারের সদস্যদের মতো ব্যক্তিবর্গের ভূমিকার কারণেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, উক্তিটি যথার্থ।

    ১. প্রবাসীদের সহযোগিতা: মাহমুদের বড় ভাই ফ্রান্স থেকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে পাঠাতেন। পাঠ্যবইয়ে বলা আছে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দেশে অর্থ সংগ্রহ ও জনমত গঠন করেছেন।
    ২. সাধারণ মানুষের সেবা: তার বাবা ও বোন মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও অন্যান্য সেবা দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছে, তথ্য দিয়েছে এবং খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করেছে।
    ৩. জনমত গঠন: মাহমুদের পরিবার যুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছে, যা মুক্তিযুদ্ধকে গণযুদ্ধে পরিণত করেছে।
    ৪. সম্মিলিত অংশগ্রহণ: সাধারণ জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার ফলেই মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে বিজয় সম্ভব হয়েছে।

    সুতরাং, মাহমুদের পরিবারের মতো ব্যক্তিদের ভূমিকাই আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন