পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ শাসিত একটি অঞ্চলের জনগণ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন ভাবে তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন। অচিরেই তাদের স্বপ্নের মোহ কেটে যায়। তারা দেখতে পেল তারা নতুনভাবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে একজন মহান নেতা জনগণের অর্থনৈতিক শোষণ ও অর্থনৈতিক বাঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্য কতকগুলো দফা ভিত্তিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা পরবর্তীতে তাদের মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কি ছিল?
- খ)(2)
আগরতলা মামলা কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে মহান নেতা কোন কর্মসূচি ঘোষণা করেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাঙালির জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধীনতা অর্জনে উক্ত কর্মসূচির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা মামলা (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য) ছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে দায়েরকৃত একটি তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা।
পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করে যে, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভারতের সহযোগিতায় সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এই মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তবে মূলত পূর্ব বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যেই আইয়ুব সরকার এই মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলাটি দায়ের করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার ঘোষিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'-র প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার শিকার হতে থাকে। দীর্ঘ বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসান ঘটাতে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। পরবর্তীতে ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ঘোষণা করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির পরও অঞ্চলটি নতুন বৈষম্য ও শোষণের শিকার হয়। তখন এক মহান নেতা মুক্তির সনদ হিসেবে দফাভিত্তিক কর্মসূচি দেন। এটি ১৯৬৬ সালের ছয় দফারই প্রতিফলন, যা বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা দিয়েছিল। তাই উদ্দীপকে ঘোষিত কর্মসূচিটি হলো ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি' বা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও স্বাধীনতা অর্জনে উদ্দীপকে নির্দেশিত ছয় দফা কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। এটি বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল।
ছয় দফা কর্মসূচিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক মাত্র দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখা, পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা প্রবর্তন, কর বা রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে রাখা এবং আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবি জানানো হয়। এর ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং বাঙালিরা তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার সম্পর্কে পরিপূর্ণ সচেতন হয়ে ওঠে।
ছয় দফাকে কেন্দ্র করেই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়, যা সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটায় এবং আগরতলা মামলা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দিদের মুক্ত করে আনে। এই আন্দোলনের পথ ধরেই শেখ মুজিবুর রহমান 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন। ছয় দফার পক্ষেই ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালিরা আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ বিজয় উপহার দেয়, যা কার্যত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পক্ষে এক বিশাল গণরায় ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই ছয় দফাই মুক্তির মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালির স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার রূপরেখা, যা জাতীয়তাবাদী চেতনাকে চূড়ান্ত রূপ দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে প্রধান অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও