উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

বিশ্বনাথ ঘোষ সাভারে একটি দুগ্ধ খামার গড়ে তোলেন । তিনি নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে প্রতিদিন ৩০০ লিটার দুধ বিক্রি করেন। একই এলাকার দরিদ্র শ্রেণির দুধ বিক্রেতারা স্থানীয় দালালদের প্রভাবে দুধের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। তাই তারা পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তাদের উৎপাদিত সব দুধ একত্র করে বিশ্বনাথ ঘোষের কাছে বিক্রি করে লাভবান হয় ।a

  1. ক)

    শ্রমের দক্ষতা কী?

    (1)
  2. খ)

    “শ্রম বিভাগ শ্রমিকের দক্ষতা বাড়ায়”— ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বিশ্বনাথ ঘোষ কোন ধরনের সংগঠনের মালিক? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দরিদ্র শ্রেণির দুধ বিক্রেতাদের সংগঠনের ধরন উল্লেখ করে দারিদ্র্য বিমোচনে সংগঠনটির গুরুত্ব মূল্যায়ন করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একজন শ্রমিকের কার্যসম্পাদনের গুণগত মান ও উৎপাদনের পরিমাণকে শ্রমের দক্ষতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শ্রম বিভাগের ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট কাজ বারবার একজন শ্রমিককে করতে হয়, ফলে সে কাজে তার বিশেষীকরণ ও পারদর্শিতা বৃদ্ধি পায়।

    একই ধরনের কাজ দীর্ঘদিন একটানা করতে থাকার কারণে শ্রমিকের গতিশীলতা বাড়ে, কাজের ত্রুটি হ্রাস পায় এবং কম সময়ে বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এভাবে বিশেষায়নের মাধ্যমে শ্রম বিভাগ শ্রমিকের দক্ষতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিশ্বনাথ ঘোষ একজন একমালিকানা সংগঠনের মালিক।

    যে ব্যবসায়ের মালিক একজন মাত্র ব্যক্তি এবং তিনি নিজেই মূলধন সরবরাহ করেন, পরিচালনা করেন এবং ব্যবসায়ের সমুদয় ঝুঁকি ও লাভ-লোকসান বহন করেন, তাকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।

    উদ্দীপকে বিশ্বনাথ ঘোষ সাভারে একাই নিজস্ব অর্থায়নে একটি দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন এবং নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে প্রতিদিন দুধ বিক্রি পরিচালনা করেন। এখানে একক মালিকানা, নিজস্ব উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণের সব বৈশিষ্ট্য দৃশ্যমান। সুতরাং, বিশ্বনাথ ঘোষ একমালিকানা সংগঠনের মালিক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দরিদ্র শ্রেণির দুধ বিক্রেতাদের সংগঠনটির ধরন হলো 'সমবায় সমিতি' (বিশেষভাবে উৎপাদক সমবায় সমিতি)। দারিদ্র্য বিমোচনে এ ধরনের সংগঠনের গুরুত্ব অপরিসীম।

    সমবায় সমিতি হলো সমমনা বা সমপেশার নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত মানুষের পারস্পরিক অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে গণতান্ত্রিক উপায়ে গঠিত যৌথ সংগঠন।

    উদ্দীপকে দরিদ্র দুধ বিক্রেতারা স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের অন্যায্য শোষণের শিকার হয়ে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তারা দালালদের প্রভাবমুক্ত হতে এবং নিজেদের স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমবায়ের মাধ্যমে উৎপাদিত দুধ একত্র করে বিশ্বনাথ ঘোষের কাছে সরাসরি বিক্রি করে লাভবান হতে পেরেছে।

    দারিদ্র্য বিমোচনে সমবায় সংগঠনের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
    ১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধ: প্রান্তিক উৎপাদকরা সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি করে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারে।
    ২. ঐক্য ও দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি: এককভাবে দুর্বল হলেও যৌথভাবে তারা বাজারে দুধের ভালো দাম পায়।
    ৩. অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় তাদের আয় বাড়ে, যা তাদের দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তা করে।

    অতএব, সমবায়ের ভিত্তিতে কাজ করে দরিদ্র শ্রেণির দুধ বিক্রেতারা শোষণমুক্ত হয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পেরেছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন