ইসলাম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

ভোক্তা অধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে প্রথম বক্তা বলেন, আমরা যা কিছু খাই সবকিছু আমাদের জন্য কল্যাণকর নয়। আর আমাদের সু-স্বাস্থ্যের জন্য যা উপযোগী তা গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা আদেশ করেছেন। অপর বক্তা বলেন, যেহেতু নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর সংখ্যা সীমিত তাই সেগুলো চিনে রাখা ও বর্জন করা আমাদের সকলের একান্ত কর্তব্য।

  1. ক)

    ফরজ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    শরিয়তে ওয়াজিবের স্থান ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    সেমিনারে প্রথম বক্তার বক্তব্যে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    সেমিনারে শেষ বক্তার উল্লিখিত বিষয় সংশ্লিষ্ট দ্রব্যের একটি তালিকা তৈরি কর এবং আমাদের জীবনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে কাজ কুরআন বা মুতাওয়াতির হাদিসের মতো অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত এবং অবশ্য পালনীয়, তাকে ফরজ বলে। এটি অস্বীকার করা কুফর এবং বিনা ওজরে ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ।

  2. খ)

    শরিয়তে ফরজের পরই ওয়াজিবের স্থান। ওয়াজিব এমন বিধান, যা ধারণামূলক (জন্নি) দলিল দ্বারা প্রমাণিত, তবে পালন করা আবশ্যক। এটি পালনে সওয়াব ও ত্যাগ করলে গুনাহ হয়। অস্বীকারকারী কাফির হয় না, কিন্তু ফাসিক গণ্য হয়। উদাহরণ: বিতরের সালাত, ঈদের সালাত, সাদাকাতুল ফিতর, কুরবানি।

  3. গ)

    প্রথম বক্তার বক্তব্যে হালাল বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

    হালাল অর্থ বৈধ বা অনুমোদিত। আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু খেতে নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৬৮)। বক্তা বলেছেন, সব খাদ্য কল্যাণকর নয়, আর স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী ও কল্যাণকর বস্তু গ্রহণ করতে আল্লাহ আদেশ করেছেন। এটি হালাল ও পবিত্র (তাইয়্যিব) বস্তু গ্রহণের নির্দেশ। হালাল খাদ্য দেহ ও আত্মা উভয়ের জন্য কল্যাণকর।

  4. ঘ)

    শেষ বক্তার উল্লিখিত বিষয় হারাম (নিষিদ্ধ)। হারাম দ্রব্যের তালিকা:
    ১. মৃত প্রাণী ও প্রবাহিত রক্ত
    ২. শূকরের মাংস
    ৩. আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা পশু
    ৪. মদ ও সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য
    ৫. সুদ, ঘুষ ও চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ

    জীবনে এর প্রভাব:
    ১. হারাম দ্রব্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মদ ও মাদক বুদ্ধি নষ্ট করে এবং শরীর ও মন ধ্বংস করে।
    ২. হারাম খাদ্য ও উপার্জন ইবাদত ও দোয়া কবুলে বাধা সৃষ্টি করে।
    ৩. এতে সমাজে অপরাধ, অশান্তি ও নৈতিক অবক্ষয় ছড়ায়।

    সুতরাং, হারাম চিনে রাখা এবং তা বর্জন করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন