বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.1.
একটি পূর্ণিমা রাতের সৌন্দর্য প্রসঙ্গে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
10.2.
প্রদত্ত শিরোনাম অবলম্বনে একটি খুদেগল্প লেখো :অসময়ের বন্ধু প্রকৃত বন্ধু।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১০.১. একটি পূর্ণিমা রাতের সৌন্দর্য প্রসঙ্গে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:
স্থান: বাড়ির ছাদ
চরিত্র: অনিক ও রাহাত
অনিক: বাহ্! রাহাত, আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেছিস আজ চাঁদের কী অপরূপ রূপ!
রাহাত: হ্যাঁ রে অনিক! পুরো ছাদ আর চারপাশের প্রকৃতি যেন এক অপার্থিব রূপালি আলোয় স্নান করছে। এমন স্নিগ্ধ পূর্ণিমার রাত বহুদিন দেখিনি।
অনিক: সত্যিই, শহরের এই যান্ত্রিক জীবনে এমন এক টুকরো স্বর্গীয় অনুভূতি মনকে দারুণ প্রশান্তি দেয়। মনে হচ্ছে যেন কোনো এক রূপকথার দেশে চলে এসেছি।
রাহাত: ঠিক বলেছিস। ওই দেখ, হালকা সাদা মেঘগুলো চাঁদের পাশ দিয়ে ভেসে যাচ্ছে, যেন মেঘের ওড়না দিয়ে চাঁদ তার মুখ লুকাচ্ছে।
অনিক: আর মৃদু শীতল হাওয়া পরিবেশটাকে আরও মোহনীয় করে তুলেছে। গাছের পাতার ফাঁক গলে যে আলো মাটিতে পড়েছে, তা যেন এক জীবন্ত আলপনা।
রাহাত: এই সৌন্দর্য দেখলেই কবির সেই লাইন মনে পড়ে যায়—‘এমন স্নিগ্ধ নদী কাহার কোথায় এমন ধূম্র পাহাড়’। প্রকৃতির এই নীরব সৌন্দর্য আমাদের যাবতীয় ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
অনিক: ঠিক তাই। এমন মায়াবী রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে সারা রাত কাটিয়ে দেওয়া যায়।
রাহাত: আসলেই। চল, আজ কিছুক্ষণ এই নীরবতার মাঝে জোছনার সৌন্দর্য উপভোগ করি।
১০.২. খুদেগল্প:
অসময়ের বন্ধু প্রকৃত বন্ধু
সোহেল আর তানভীর ছোটবেলার বন্ধু হলেও দুজনের পরিবারের আর্থিক অবস্থার মধ্যে ছিল বিস্তর ফারাক। সোহেল ছিল বিত্তবান পরিবারের সন্তান, ফলে তার চারপাশে বন্ধুর অভাব ছিল না। তার পেছনে টাকা খরচ করার মানুষের দল সবসময় ঘিরে থাকত। অন্যদিকে তানভীর ছিল মধ্যবিত্ত, শান্ত ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। সোহেলের সেই ‘উচ্ছন্নে যাওয়া’ বন্ধুদের তানভীর পছন্দ করত না বলে সোহেলও ধীরে ধীরে তানভীরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল।
হঠাৎ একদিন সোহেলের পরিবারে বিপর্যয় নেমে এলো। তার বাবার ব্যবসায় বিরাট ধস নামল এবং তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। নিমিষেই সোহেলদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিকে হয়ে গেল। বাবার চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বেশ কিছু অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়ল। সোহেল দিশেহারা হয়ে তার তথাকথিত বন্ধুদের দ্বারে দ্বারে ঘুরল। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত যারা সোহেলের অর্থে আনন্দ-ফুর্তি করত, তারা সবাই নানা অজুহাতে মুখ ফিরিয়ে নিল। একপর্যায়ে কেউ তার ফোনও ধরল না। চরম হতাশায় সোহেল যখন হাসপাতালের বারান্দায় বসে কাঁদছিল, তখন হঠাৎ কাঁধে একটি পরিচিত হাতের স্পর্শ অনুভব করল। মুখ তুলে দেখল সামনে তানভীর দাঁড়িয়ে। তানভীরের হাতে একটি টাকার খাম। সে তার নিজের জমানো টাকা এবং পরিবারের সহায়তায় সংগ্রহ করা অর্থ নিয়ে ছুটে এসেছে সোহেলের বাবার অপারেশনের জন্য। সোহেল কান্নায় ভেঙে পড়ে তানভীরকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইল। তানভীর বলল, “বন্ধুত্ব তো সুদিনের উৎসব নয় রে, দুর্দিনে পাশে থাকার অঙ্গীকার।” সেদিন সোহেল জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি পেল—অসময়ের বন্ধুই যে প্রকৃত বন্ধু।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও