পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

'ক' অঞ্চলটি দীর্ঘদিন 'খ' অঞ্চল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। 'ক' অঞ্চলের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে রনি সাহেব সদস্য নির্বাচিত হন। অপরদিকে গতবারে নির্বাচিত সদস্য জহির সাহেব পরাজিত হন। তিনি পরাজয় মেনে না নিয়ে রনি সাহেবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। প্রশাসন রনি সাহেবকে গ্রেফতার করে জেলে আটকে রাখেন। 'ক' অনঞ্চলের তীব্র আন্দোলনের ফলে প্রশাসন রনি সাহেবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ।। পর্যায়ক্রমে 'ক' অঞ্চলের জনগণের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।

  1. ক)

    পাকিস্তান সৃষ্টির মূল ভিত্তি কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ৬ দফা কর্মসূচিকে 'বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জহির সাহেবের আচরণের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকগোষ্ঠীর কর্মকান্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রনি সাহেবের নির্বাচনি এলাকার জনগণের সাথে তুমি বাঙালি জাতির কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্য দেখতে পাও? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পাকিস্তান সৃষ্টির মূল ভিত্তি ছিল দ্বি-জাতি তত্ত্ব, অর্থাৎ ধর্মের ভিত্তিতে হিন্দু ও মুসলমান দুই পৃথক জাতি।

  2. খ)

    ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা উত্থাপন করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রা ও অর্থনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য ও আয়ের ওপর অধিকার এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষার দাবি ছিল। এর মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ দূর করার পথ দেখানো হয়। এটি বাঙালির স্বায়ত্তশাসন ও মুক্তির আন্দোলনের ভিত্তি হয়, তাই ছয় দফাকে 'বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ' বলা হয়।

  3. গ)

    জহির সাহেবের আচরণের সাথে পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠীর (বিশেষ করে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের সরকারের) কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে জহির সাহেব পরাজয় মেনে না নিয়ে নির্বাচিত সদস্য রনি সাহেবের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেন। একইভাবে পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালি নেতৃত্বকে দমনে ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনকে আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেয়। আবার ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতলেও তারা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র চালায়।

  4. ঘ)

    রনি সাহেবের নির্বাচনি এলাকার জনগণের সাথে বাঙালি জাতির ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও এরপর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১. অন্যায় গ্রেফতার ও মুক্তি: উদ্দীপকে রনি সাহেবকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং তীব্র আন্দোলনের ফলে মুক্তি দিতে বাধ্য করা হয়। ১৯৬৯ সালে আগরতলা মামলার আসামি শেখ মুজিবকেও গণআন্দোলনের চাপে মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দেওয়া হয়।

    ২. গণআন্দোলন: ১১ দফা ও ছয় দফার ভিত্তিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আইয়ুব সরকার ভেঙে পড়ে। উদ্দীপকের আন্দোলনও জনগণের ঐক্যের ফল।

    ৩. সশস্ত্র সংগ্রাম ও স্বাধীনতা: উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চল শেষে সশস্ত্র সংগ্রামে স্বাধীনতা পায়। তেমনি ১৯৭০-এর নির্বাচনের ফল অগ্রাহ্য করায় বাঙালি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করে।

    সুতরাং, রনি সাহেবের এলাকার জনগণের আন্দোলন বাঙালির ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন