বিজ্ঞান • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

বিজ্ঞান প্রশ্ন

বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের প্রায়ই ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। আবার উত্তর অঞ্চলে একটি বিশেষ দুর্যোগের কারণে ঘরবাড়ি, আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতি বছর বহুলোক মারা যাচ্ছে।

  1. ক)

    আংশিক খরা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার জন্য CO₂ গ্যাস এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দক্ষিণ অঞ্চলে ঘটে যাওয়া দুর্যোগগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় দুর্যোগটি যেভাবে সৃষ্টি হয় তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিশেষ দুর্যোগটি আলোচনাপূর্বক দুর্যোগটি মোকাবেলায় তুমি কী কী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পরপর ২৯ দিন ধরে গড় বৃষ্টিপাত দৈনিক ০.২৫ মিলিমিটারের কম হলে তাকে আংশিক খরা বলে।

  2. খ)

    সূর্য থেকে আসা আলোর বড় অংশ পৃথিবীপৃষ্ঠে এসে তাপে রূপান্তরিত হয়ে অবলোহিত রশ্মি হিসেবে ফিরে যেতে চায়। বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড এই অবলোহিত রশ্মি শোষণ করে আটকে রাখে।

    ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো ও বন ধ্বংসের কারণে CO₂-এর পরিমাণ বাড়লে এই প্রভাব আরও তীব্র হয়, যা গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার প্রধান কারণ।

  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দক্ষিণ অঞ্চলের দুর্যোগ তিনটির মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো সাইক্লোন। এটি এভাবে সৃষ্টি হয়:

    ১. বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানির ওপর বাতাস গরম হয়ে হালকা হয়ে ওপরে ওঠে এবং সেখানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
    ২. ওপরে ওঠা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হলে সুপ্ত তাপ নির্গত হয়, যা বাতাসকে আরও উষ্ণ করে ও ওপরে টানে।
    ৩. নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে চারপাশ থেকে বাতাস ছুটে আসে। পৃথিবীর আবর্তনের কারণে তা ঘুরতে ঘুরতে প্রবল ঘূর্ণি সৃষ্টি করে।
    ৪. এভাবে প্রবল বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টি নিয়ে সাইক্লোন উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিশেষ দুর্যোগটি হলো নদীভাঙন। উত্তরাঞ্চলে বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোত ও পলিমাটির দুর্বল তীরের কারণে তীর ক্ষয়ে গিয়ে ঘরবাড়ি ও আবাদী জমি নদীগর্ভে চলে যায়।

    এ দুর্যোগ মোকাবেলায় আমি যেসব পদক্ষেপ নেব:
    ১. ভাঙনপ্রবণ তীরে বাঁধ, জিও-ব্যাগ ও সিসি ব্লক দিয়ে তীর সংরক্ষণ করব।
    ২. নদীর তীরে গাছ লাগাব, কারণ গাছের শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে ভাঙন কমায়।
    ৩. নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করব।
    ৪. আগাম সতর্কবার্তা, নিরাপদ আশ্রয় ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করব।
    ৫. স্থানীয় মানুষকে সচেতন করব এবং বিপজ্জনক এলাকায় ঘরবাড়ি নির্মাণ নিরুৎসাহিত করব।

    এসব পদক্ষেপ একসঙ্গে গ্রহণ করলে নদীভাঙনের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন