কৃষিশিক্ষা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

হরিপুরের কচুয়া বিলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে মাইকিং করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং বিলটির চারপাশে লাল পতাকা উড়িয়ে নিষিদ্ধ স্থানটি চিহ্নিত করে। এরপরও উক্ত গ্রামের আক্কাস মিয়া রাতের বেলায় মাছ ধরতে গিয়ে ধরা পড়ে এবং শাস্তি পায়। কয়েক মাস পর আবার সে মাছ ধরতে গিয়ে ধরা পরে এবং দ্বিতীয়বার আইন ভঙ্গকারীর শাস্তি পায় ।

  1. ক)

    মৌসুমি পুকুর কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দূরবর্তী স্থানে পলিথিন ব্যাগে পোনা পরিবহনে অক্সিজেন ব্যবহার করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আক্কাস মিয়ার কী ধরনের শাস্তি হয়েছিল? বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ব্যবস্থাপনাটি মৎস্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তোমার মতামত দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে পুকুরে বছরের সব সময় নয়, শুধু কিছু সময় (সাধারণত বর্ষার পর কয়েক মাস) পানি থাকে, তাকে মৌসুমি পুকুর বলে।

  2. খ)

    দূরবর্তী স্থানে পোনা পরিবহনের সময় পলিথিন ব্যাগে পানির পরিমাণ কম থাকে এবং পোনা ঘনভাবে থাকে। ফলে সময়ের সাথে পানির অক্সিজেন কমে যায়। অক্সিজেন না থাকলে পোনা মারা যেতে পারে। তাই ব্যাগে অক্সিজেন ভরে দিলে পোনা সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছায়।

  3. গ)

    আক্কাস মিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত বিলে মাছ ধরে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে তিনি আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড (জরিমানা) বা উভয় ধরনের শাস্তি পেয়েছেন।

    প্রথমবার ধরা পড়ার পর তিনি প্রাথমিক শাস্তি পান। কিন্তু পুনরায় একই অপরাধ করায় দ্বিতীয়বার আইন ভঙ্গের কারণে তিনি অধিক (বর্ধিত) শাস্তি পান। আইনে দ্বিতীয়বার অপরাধ করলে শাস্তি বেশি হয়।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমি মনে করি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ব্যবস্থাপনা মৎস্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    ১. প্রজনন ও বংশবিস্তার রক্ষা: নিষিদ্ধ এলাকা ও সময়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে মাছ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
    ২. মাছের মজুদ বৃদ্ধি: সংরক্ষিত স্থানে মাছ বড় হয়, ফলে ভবিষ্যতে মোট উৎপাদন বাড়ে।
    ৩. বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি রক্ষা: অভয়াশ্রমে দেশীয় ও বিপন্ন প্রজাতি টিকে থাকে।
    ৪. সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ: মাইকিং, পতাকা ও শাস্তির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হয়, ফলে অপরাধ কমে।

    সুতরাং, এ ব্যবস্থা মৎস্যসম্পদ রক্ষা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির উন্নয়নে সহায়ক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন