বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

"দস্তকের দাবি ছড়ায় আগুনের ভাষা,মীর কাশিম-মনরোর দ্বন্দ্ব,শেষে বাড়ল এমন টানাপোড়েন, যেন চারদিকে ঘনিয়ে এলো যুদ্ধ।"

  1. ক)

    'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে কারা?

    (1)
  2. খ)

    'অন্ধকূপ হত্যা' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি ঐতিহাসিক কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলায় শুরু হয় প্রত্যক্ষ উপনিবেশিক শাসন- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ওলন্দাজ (ডাচ) বণিকরা ১৬০২ খ্রিষ্টাব্দে ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে।

  2. খ)

    ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করেন। ইংরেজ ইতিহাসবিদ হলওয়েলের বিবরণ অনুযায়ী, এরপর বন্দি ১৪৬ জন ইংরেজকে একটি ছোট কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং রাতে তাদের মধ্যে ১২৩ জনের মৃত্যু ঘটে।

    এই ঘটনাই ‘অন্ধকূপ হত্যা’ নামে পরিচিত। তবে হলওয়েলের এই বর্ণনা ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে বহু ঐতিহাসিক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত মনে করেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকে ‘দস্তক’-এর দাবি এবং মীর কাশিম ও মনরোর দ্বন্দ্বের কথা বলা হয়েছে, যা ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দের বক্সারের যুদ্ধকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ইংরেজরা দস্তক বা বিনা শুল্কে বাণিজ্যের ছাড়পত্র অপব্যবহার করে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসায়ও শুল্ক ফাঁকি দিত। নবাব মীর কাশিম এর প্রতিবাদে দেশীয় বণিকদের শুল্ক মওকুফ করে দিলে কোম্পানির সঙ্গে সংঘাত তীব্র হয়। এরই চূড়ান্ত পরিণতিতে মীর কাশিম অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও মোগল সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে জোট বেঁধে মেজর হেক্টর মনরোর নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে বক্সারে যুদ্ধ করেন।

  4. ঘ)

    উক্তিটি যথার্থ। ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয়ের মধ্য দিয়েই বাংলায় তাদের প্রত্যক্ষ উপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি তৈরি হয়।

    ১. যুদ্ধে মীর কাশিম, সুজাউদ্দৌলা ও শাহ আলমের মিলিত বাহিনী পরাজিত হয়, ফলে ইংরেজদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
    ২. ১৭৬৫ সালের এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে মোগল সম্রাট কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের অধিকার দেন।
    ৩. এরপর দ্বৈত শাসন চালু হয়। কোম্পানি রাজস্বের ক্ষমতা পায়, আর নবাবের হাতে শুধু নামমাত্র প্রশাসন থাকে।
    ৪. ফলে নবাব কার্যত ইংরেজদের পুতুলে পরিণত হন এবং প্রকৃত ক্ষমতা কোম্পানির হাতে চলে যায়।

    সুতরাং, বক্সারের যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলায় প্রত্যক্ষ উপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন