বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে আসেন পাগলপ্রায় ফারহানা, ব্যস্ত ও উদ্বিগ্ন অবস্থায় স্বামীকেও খবর পাঠান। ঘরে ফিরে দেখেন জ্বরে ছেলের গা পুড়ে যাচ্ছে। ঝাড়ফুঁকের জন্য তার শাশুড়ি গ্রামের ইদ্রিস মোল্লাকে নিয়ে এসেছেন। এসব বাদ দিয়ে ফারহানা ছেলেকে নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ডেঙ্গু আশঙ্কা করে চিকিৎসক পরীক্ষানিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দিলেন। পরদিন পরীক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং ছেলের প্লাটিলেট দ্রুত কমতে থাকে। ফারহানা ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে নাওয়াখাওয়া ভুলে সারাক্ষণ ছেলের সেবা করে তাকে সারিয়ে তোলেন। এদিকে তার শাশুড়ি নাতির রোগমুক্তি কামনা করে মসজিদে দান করার মানত করেন।

  1. ক)

    জসীমউদ্দীনের কোন গ্রন্থটি বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    'যে কথা ভাবিতে পরাণ শিহরে তাই ভাসে হিয়া কোণে'- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শাশুড়ির মধ্যে 'পল্লিজননী' কবিতার যে বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ফারহানা ও পল্লিজননী একসূত্রে গাঁথা।'- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জসীমউদ্দীনের ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ গ্রন্থটি বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

  2. খ)

    সন্তানের অসুখে মায়ের মন সবসময় অমঙ্গলের আশঙ্কায় কাঁপে। পল্লিজননী পুত্রের জীবন নিয়ে এমন ভয়ংকর কথা মনে ভাবেন, যা ভাবতেই তার প্রাণ শিউরে ওঠে। অথচ সেই আশঙ্কা তিনি মন থেকে সরাতে পারেন না। এ কথার মাধ্যমে সন্তানের প্রতি মায়ের গভীর মমতা ও মৃত্যুভয় প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের শাশুড়ি নাতির অসুখে চিকিৎসার পরিবর্তে ঝাড়ফুঁকের জন্য ইদ্রিস মোল্লাকে ডেকে আনেন এবং রোগমুক্তির জন্য মসজিদে দানের মানত করেন। এতে গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিশ্বাসনির্ভরতা ফুটে উঠেছে।

    ‘পল্লিজননী’ কবিতায়ও অসুস্থ সন্তানের মা ঝাড়ফুঁক, মানত ও দোয়া-তাবিজের মতো গ্রামীণ বিশ্বাসের আশ্রয় নেন। সন্তানের মঙ্গলের আশায় তিনি এসব উপায় অবলম্বন করেন। শাশুড়ির আচরণে কবিতার এই লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কারের দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    মন্তব্যটি যথার্থ। পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ফারহানা ও পল্লিজননী একই সূত্রে গাঁথা।

    ১. সন্তানের জন্য ব্যাকুলতা: সন্তানের অসুস্থতার খবর পেয়ে ফারহানা পাগলপ্রায় হয়ে ছুটে এসেছেন, নাওয়াখাওয়া ভুলে ছেলের সেবা করেছেন। পল্লিজননীও অসুস্থ সন্তানের পাশে ব্যাকুল হয়ে রাত কাটান।
    ২. সন্তানের সুস্থতার জন্য সর্বস্ব দেওয়ার মনোভাব: দুজনেই সন্তানের জীবনের জন্য সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।
    ৩. পার্থক্য: ফারহানা আধুনিক চিকিৎসার আশ্রয় নিয়েছেন, আর পল্লিজননী গ্রামীণ পরিবেশে ঝাড়ফুঁক-মানতের ওপর নির্ভর করেছেন। এ পার্থক্য শিক্ষা ও পরিবেশের।

    সুতরাং, উপায়ে ভিন্নতা থাকলেও মাতৃস্নেহ ও সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসা উভয়কেই একই সূত্রে গেঁথেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন