বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

(i) জাতিতে জাতিতে ধর্মে নিশিদিন হিংসা ও বিদ্বেষ
মানুষে করিছে ক্ষুদ্র, বিষাইছে বিশ্বের আকাশ
'মানবতা মহাধর্ম রোধ করি করিছে উল্লাস।
(ii) জাতি ধর্ম রাষ্ট্র ন্যায় সকলি যে মানুষের তরে
মানুষ সবার ঊর্ধ্বে, নহে কিছু তাহার অধিক।

  1. ক)

    মোল্লা ভুখারিকে কোথায় গিয়ে মরতে বলেছে? .

    (1)
  2. খ)

    “তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি" — চরণটি বুঝিয়ে লেখো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক (i) এ মোল্লা-পুরোহিত চরিত্রের যে দিকটির প্রকাশ ঘটেছে তা বর্ণনা করো

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক (ii) এ 'মানুষ' কবিতার কবি চেতনারই প্রকাশ ঘটেছে।" বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মোল্লা ভুখারিকে গোরস্থানে গিয়ে মরতে বলেছে।

  2. খ)

    চরণটিতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন, উপাসনালয়ে স্রষ্টাকে পাওয়া যায় না যদি সেখানে মানুষের স্থান না থাকে।

    মোল্লা-পুরোহিতরা ধর্মের নামে মসজিদ-মন্দিরের দরজায় তালা দিয়ে ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষকে তাড়িয়ে দেয়। অথচ স্রষ্টা মানুষের মাঝেই বিরাজ করেন। তাই মানুষকে অবহেলা করে উপাসনালয়ে প্রভুর খোঁজ করা অর্থহীন। কবির মতে, মানুষের সেবা ও অধিকারের স্বীকৃতিই প্রকৃত ধর্ম।

  3. গ)

    উদ্দীপক (i)-এ জাতিতে জাতিতে ও ধর্মে ধর্মে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে মানবতাকে রোধ করার চিত্র ফুটে উঠেছে। ‘মানুষ’ কবিতার মোল্লা-পুরোহিত চরিত্রেও এই সাম্প্রদায়িক, সংকীর্ণ ও মানবতাবিরোধী দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

    কবিতায় দেখা যায়, ক্ষুধার্ত ভুখারি মসজিদ ও মন্দিরের দুয়ারে সাহায্য চাইতে গেলে মোল্লা তাকে গোরস্থানে গিয়ে মরতে বলে, আর পুরোহিত তাকে মন্দির থেকে তাড়িয়ে দেয়। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং মানুষের কষ্টের প্রতি উদাসীন থাকে। উদ্দীপকে বর্ণিত ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মানবতার অবমাননার সঙ্গে মোল্লা-পুরোহিতদের এই ধর্মীয় গোঁড়ামি, ভণ্ডামি ও হৃদয়হীনতা সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    উদ্দীপক (ii)-এ বলা হয়েছে, জাতি, ধর্ম, রাষ্ট্র, ন্যায় সবকিছুই মানুষের জন্য এবং মানুষই সবার ঊর্ধ্বে। ‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মূল চেতনাও মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িকতা।

    ১. কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, ধর্মের নামে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা অন্যায়। মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, কারণ মানুষই ধর্ম সৃষ্টি করেছে, ধর্ম মানুষকে সৃষ্টি করেনি।
    ২. উপাসনালয়ের চেয়েও ক্ষুধার্ত মানুষের অধিকার কবির কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি মোল্লা-পুরোহিতদের সংকীর্ণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
    ৩. উদ্দীপকেও ধর্ম, জাতি বা রাষ্ট্রের উর্ধ্বে মানুষের মর্যাদাকেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    সুতরাং, উদ্দীপক (ii)-এ ‘মানুষ’ কবিতার কবিচেতনা তথা মানবতাবাদী চেতনারই প্রকাশ ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন