ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
কর্ণফুলি এনার্জি প্লাস বাল্ব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক মিঃ Y প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন ২০০ একক। সপ্তাহ শেষে তিনি কার্যফল পরিমাপ করে দেখেন উৎপাদনের পরিমাণ ১৫০ একক। তিনি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কারণ সম্পর্কে উৎপাদন ব্যবস্থাপককে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।
- ক)(1)
নিয়ন্ত্রণের প্রথম পদক্ষেপ কী?
- খ)(2)
বাজেটিয় নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিচ্যুতির পরিমাণ কত একক? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির আদর্শমান অর্জিত না হওয়ার কারণ সনাক্ত ও বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিয়ন্ত্রণের প্রথম পদক্ষেপ হলো আদর্শ মান নির্ধারণ (Establishing Standards)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাজেটে উল্লেখিত সংখ্যাত্মক তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কার্যফলের সাথে তুলনা করে বিচ্যুতি নির্ণয় ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বাজেটিয় নিয়ন্ত্রণ বলে।
বাজেটিয় নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি ও প্রত্যাশিত ফলাফলকে আর্থিক বা সংখ্যাত্মক এককে প্রকাশ করা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর পর বাস্তব অগ্রগতি বাজেটের সাথে মিলিয়ে দেখা হয় এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পার্থক্য দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিচ্যুতির পরিমাণ হলো ৫০ একক (ঋণাত্মক বিচ্যুতি)।
নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় আদর্শ মান বা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সাথে প্রকৃত কার্যফলের পার্থক্যকে বিচ্যুতি বলে।
বিচ্যুতির সূত্রটি হলো:
বিচ্যুতি = নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা (আদর্শ মান) - প্রকৃত কার্যফল
উদ্দীপকে কর্ণফুলি এনার্জি প্লাস বাল্ব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক মিঃ Y-এর সাপ্তাহিক উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বা আদর্শ মান ছিল ২০০ একক। সপ্তাহ শেষে দেখা যায় প্রকৃত উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫০ একক।
অতএব, বিচ্যুতি = ২০০ একক - ১৫০ একক = ৫০ একক।
এখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ একক কম উৎপাদিত হওয়ায় বিচ্যুতির পরিমাণ ৫০ একক (অনুকূল নয় বা ঘাটতি)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতে আদর্শমান অর্জিত না হওয়ার পেছনে মূলত উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ত্রুটি, কাঁচামালের সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা কর্মীদের দক্ষতার ঘাটতি কার্যকর কারণ হতে পারে।
নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিচ্যুতি নির্ধারণ এবং তার পেছনের কারণ চিহ্নিতকরণ। লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জিত ফলের মধ্যকার ব্যবধান দূর করার জন্য বিচ্যুতির প্রকৃত কারণ উদঘাটন আবশ্যক। উদ্দীপকে দেখা যায়, কর্ণফুলি এনার্জি প্লাস প্রতিষ্ঠানে ২০০ এককের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৫০ একক উৎপাদিত হয়েছে, যার ফলে ৫০ একক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মিঃ Y এই ঘাটতির কারণ অনুসন্ধানের জন্য উৎপাদন ব্যবস্থাপককে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
প্রতিষ্ঠানটির আদর্শ মান অর্জিত না হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১. কাঁচামালের অভাব বা নিম্নমানের কাঁচামাল সরবরাহ: সময়মতো কাঁচামাল না পৌঁছানোয় উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
২. যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি: কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে আকস্মিক যান্ত্রিক গোলযোগ বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন থেমে থাকতে পারে।
৩. কর্মীদের অদক্ষতা ও অসন্তোষ: কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব, অবহেলা কিংবা প্রেষণার ঘাটতি থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয় না।
৪. ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা বা সমন্বয়হীনতা: বিভাগীয় সমন্বয়ের অভাব থাকলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হয় না।সুতরাং, উপযুক্ত কারণগুলো চিহ্নিত করে মিঃ Y যদি দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তবেই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় তার আদর্শ মান অর্জন করতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও