বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

নাজমুল খুব অল্প বয়সে 'ক' প্রদেশের সিংহাসনে বসেন। সিংহাসনে বসে তাকে পারিবারিক নিকট-আত্মীয় ও বিভিন্ন অঞ্চলের বণিক শ্রেণির ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়। ত্রিমুখী ষড়যন্ত্রের ফলে নাজমুল এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত হয়। পরবর্তীতে স্বাধীনচেতা মিনহাজ বিদেশি বণিক শ্রেণির বিরুদ্ধে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে দুর্ভাগ্যক্রমে ব্যর্থ হন এবং 'ক' রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব উদ্ধারের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

  1. ক)

    দিনেমাররা কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈত শাসন' কী? ব্যাখ্যা করো।,

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধটি বাংলার কোন যুদ্ধের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? উক্ত যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মিনহাজের ব্যর্থতাই বিদেশি বণিক শ্রেণির আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করে দেয়। পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দিনেমাররা ডেনমার্কের অধিবাসী ছিলেন।

  2. খ)

    ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ বাংলায় যে শাসনব্যবস্থা চালু করেন, তাকেই দ্বৈত শাসন বলা হয়।

    এ ব্যবস্থায় দেওয়ানি অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা ছিল ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে, আর নিজামত অর্থাৎ শাসন ও বিচারের দায়িত্ব ছিল নবাবের হাতে। ফলে কোম্পানির ক্ষমতা ছিল কিন্তু দায়িত্ব ছিল না, আর নবাবের দায়িত্ব ছিল কিন্তু ক্ষমতা ছিল না। এতে প্রশাসনে অব্যবস্থা ও জনগণের দুর্দশা দেখা দেয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে অল্প বয়সে সিংহাসনে বসা নাজমুলের বিরুদ্ধে আত্মীয় ও বণিকদের ত্রিমুখী ষড়যন্ত্র এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজয়ের কথা বলা হয়েছে। এটি ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    পলাশীর যুদ্ধের কারণ ছিল:
    ১. সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসন আরোহণে ঘসেটি বেগম ও শওকত জং-এর বিরোধিতা এবং তাদের পক্ষে ইংরেজদের সমর্থন।
    ২. নবাবের অনুমতি ছাড়া কলকাতায় ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার।
    ৩. দস্তকের অপব্যবহার করে ইংরেজদের শুল্ক ফাঁকি দেওয়া।
    ৪. রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাসকে নবাবের হাতে তুলে না দিয়ে আশ্রয় দেওয়া।
    এসব কারণে নবাব ও কোম্পানির সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পলাশীর যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মিনহাজ চরিত্রটি বাংলার শেষ স্বাধীনচেতা নবাবদের একজন, মীর কাশিমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাঁর ব্যর্থতাই ইংরেজ বণিকদের আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করে দেয়।

    ১. মীর কাশিম প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সংস্কার করে এবং দস্তকের অপব্যবহার বন্ধ করে ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়েছিলেন।
    ২. ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে তিনি পরাজিত হলে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধের শেষ সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।
    ৩. এরপর ইংরেজরা মীর জাফরকে আবার সিংহাসনে বসায় এবং ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভ করে।
    ৪. ফলে নবাব নামমাত্র শাসকে পরিণত হন এবং ইংরেজ বণিকরা বাংলার প্রকৃত শাসকে পরিণত হয়।

    সুতরাং, মীর কাশিমের ব্যর্থতাই ইংরেজদের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন