‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

শাফিনাজ রহমান দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাসে একদিন বললেন একটি বিশেষ অধিকারের কথা, যে অধিকারের রক্ষক জাতিসংঘ এবং সেই অধিকারটি মানুষের জন্মগত অধিকার। উক্ত অধিকারটি ছাড়া মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না।

  1. ক)

    এদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উক্ত বিষয়টি মানুষের মানবিক মর্যাদাবোধকে সমুন্নত করে" উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এদেশের (বাংলাদেশের) সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে সরকারের প্রধান তিনটি বিভাগ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যপরিধি একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন রাখার ধারণাকে বোঝায়। ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর 'দ্য স্পিরিট অব লজ' গ্রন্থে এ নীতির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি বিভাগ যাতে স্বৈরাচারী না হতে পারে এবং নাগরিক স্বাধীনতা যাতে সুরক্ষিত থাকে তা নিশ্চিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'মানবাধিকার' (Human Rights) বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে।

    মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য আবশ্যক। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ 'সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র' (UDHR) গ্রহণের মাধ্যমে এর স্বীকৃতি দেয় এবং জাতিসংঘ মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক রক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

    উদ্দীপকে শিক্ষক শাফিনাজ রহমান এমন এক অধিকারের কথা বলেছেন যা মানুষের জন্মগত, যার রক্ষক জাতিসংঘ এবং যা মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি মানবাধিকারের ধারণাকে নির্দেশ করে। মানবাধিকার নিশ্চিত না হলে মানুষ সমাজে তার সম্ভাবনা ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "মানবাধিকার মানুষের মানবিক মর্যাদাবোধকে সমুন্নত করে"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    মানবাধিকারের মূল কথাই হলো প্রতিটি মানুষ জন্মগতভাবে সমান ও মর্যাদাসম্পন্ন। মানুষ শুধু একটি জৈবিক সত্তা নয়, তার রয়েছে বিবেক, বুদ্ধি ও আত্মসম্মান। মানবাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই মানবিক গুণাবলি ও মর্যাদা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।

    প্রথমত, মানবাধিকার মানুষের মৌলিক চাহিদা যেমন—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার অধিকার স্বীকার করে মানুষকে দারিদ্র্য ও অসম্মান থেকে রক্ষা করে। দ্বিতীয়ত, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাম্য এবং আইনের চোখে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষকে দাসত্ব, বৈষম্য, নির্যাতন ও শোষণ থেকে মুক্তি দেয়। যখন কোনো সমাজে একজন নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘিত হয় না এবং সে নির্ভয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে, তখনই তার মানবিক মর্যাদাবোধ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। উদ্দীপকের শিক্ষকও উল্লেখ করেছেন যে, এই অধিকার ছাড়া মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয় না।

    সুতরাং বলা যায়, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং সাম্যের নিশ্চয়তা প্রদানের মাধ্যমে মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের মানবিক মর্যাদাবোধকে সমুন্নত ও সুরক্ষিত রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন