বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
"চকচকে রোদ। সড়কের উত্তরে রাইফেল রেঞ্জের মধ্যে গামছা-পরা এক কিশোর তিন চারটে গরু খেদিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার মাথায় ছালা বোঝাই ঘাস। কাঁধে লাঙল-জোয়াল। সম্ভবত সে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছে। 'মুক্তি। মুক্তি!' একজন সৈনিক চিৎকার করে ওঠে। 'কাঁহা? কাঁহা?- অপরেরা প্রশ্ন করে।'ডাহনা তরফ দেখো।'কলিমুদ্দি দফাদার সবিনয়ে বলতে চায়, 'মুক্তি নেহি ক্যাপ্টেন সাব, উয়ো রাখাল হ্যায়, মেরা চেনাজানা হ্যায়।' 'চুপরাও সালে কাফের কা বাচ্চা কাফের। মুক্তি, আলবৎ মুক্তি।' বলেই সকলে একসঙ্গে গুলি ছোড়ে। এলাকা কেঁপে ওঠে। ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে দূরে ছড়িয়ে পড়ে।
- ক)(1)
রেইনকোট' গল্পটি কার লেখা?
- খ)(2)
'ব্র্যাক ডাউনের' রাতে কী ঘটেছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের আলোকে স্বাধীনতাযুদ্ধে এদেশের জনসাধারণের অবস্থা আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'রেইনকোট' গল্পটি কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক্র্যাক ডাউনের' রাতে (গল্পে ভুল উচ্চারণে 'ব্র্যাক ডাউন' বলা হয়েছে) ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অতর্কিতে বর্বর ও নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল। সেই ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকার পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে কামান, মর্টার ও রাইফেল নিয়ে নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অন্ধ বর্বরতা এবং নিরীহ বাঙালিদের ওপর নির্বিচারে চালানো নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের দিকটি ফুটে উঠেছে।
'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা মুক্তিযোদ্ধাদের ভয় পেত এবং একই সাথে সাধারণ বাঙালিকে শত্রু ও সন্দেহের চোখে দেখত। কলেজের অধ্যাপক নুরুল হুদাকে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই কেবল সন্দেহের বশে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পাকিস্তানি মিলিটারিদের কাছে প্রতিটি সাধারণ বাঙালিই ছিল সন্দেহভাজন ও সম্ভাব্য 'মিসক্রিয়ান্ট' বা মুক্তিযোদ্ধা।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, সড়কের পাশে গরু চরিয়ে ঘাস নিয়ে বাড়ি ফেরা এক সাধারণ রাখাল কিশোরকে পাকিস্তানি সেনারা 'মুক্তি' ভেবে গুলি করতে উদ্যত হয়। স্থানীয় দফাদার তাকে নির্দোষ রাখাল বলে পরিচয় দিলেও মিলিটারিরা কোনো কথা না শুনে 'সালে কাফের কা বাচ্চা কাফের' বলে একযোগে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। এই অন্ধ আক্রোশ ও বর্বর মানসিকতা 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত পাকিস্তানি হানাদারদের নিষ্ঠুর আচরণেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের আলোকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে এদেশের জনসাধারণের চরম নিরাপত্তাহীন, আতঙ্কগ্রস্ত ও নিপীড়িত জীবনের করুণ বাস্তব চিত্র উন্মোচিত হয়েছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী গোটা বাংলাদেশকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল। সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ন্যূনতম নিরাপত্তা ছিল না। 'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, পুরো ঢাকা শহর প্রতিনিয়ত থমথমে আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। মিলিটারি দেখলেই সাধারণ মানুষ ভয়ে কেঁপে উঠত। বাসে, রাস্তায় কিংবা ঘরে—কোথাও শান্তি ছিল না। নুরুল হুদার মতো সাধারণ কলেজ শিক্ষককেও সামান্য সন্দেহের কারণে ধরে নিয়ে গিয়ে বরফশীতল ঘরে ঝুলিয়ে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
উদ্দীপকেও সাধারণ মানুষের সেই চরম অসহায় অবস্থার রূপ স্পষ্ট। একজন নিরীহ রাখাল কিশোর, যে নিজের দৈনন্দিন জীবিকার কাজে ব্যস্ত, তাকেও পাকিস্তানি সেনারা কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়া কেবল সন্দেহবশত গুলি করে হত্যা করে। শান্তি কমিটির বা স্থানীয় দফাদারের অনুরোধও সেখানে কোনো কাজে আসেনি। পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে সাধারণ বাঙালির জীবনের কোনো মূল্যই ছিল না।
সুতরাং, উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্প উভয়টিতেই প্রমাণিত হয় যে, স্বাধীনতাযুদ্ধের নয় মাস বাংলার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয়, নিপীড়ন ও চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো নির্দোষ নাগরিক পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মম বুলেটের শিকার হতে পারত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও