গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের ছক দুটি লক্ষ্য করো:ছক-১: কাপড়, ছোট পুঁতি, সুতা, ভ্যাট রংছক-২: কাপড়, ব্রাশ, মোম, জাটিং, প্রুশিয়ান রং
- ক)(1)
প্রাকৃতিক রং কাকে বলে?
- খ)(2)
স্ক্রিন ছাপা ব্যয়বহুল— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ছক-১ এর উপকরণ ব্যবহার করে কোন ধরনের বস্ত্র ছাপা দেওয়া হয়? ছক-১ ও ছক-২ এ রং এর ব্যবহার ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ছক-১ ও ছক-২ এ বস্ত্র রং এর প্রয়োগ পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতি থেকে যেমন— উদ্ভিদ, প্রাণী বা খনিজ উৎস থেকে সরাসরি আহরিত রংকে প্রাকৃতিক রং বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্ক্রিন ছাপায় নকশার প্রতিটি রঙের জন্য আলাদা আলাদা ফ্রেম বা স্ক্রিন তৈরি করতে হয়। তাছাড়া ফ্রেম তৈরি, সূক্ষ্ম জালিযুক্ত বিশেষ কাপড় লাগানো, আলো-সংবেদনশীল রাসায়নিক প্রলেপ দেওয়া এবং অভিজ্ঞ কারিগরের প্রয়োজন হয়। অল্প পরিমাণ কাপড় ছাপার ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক ব্যয় অনেক বেশি পড়ে বলে স্ক্রিন ছাপা পদ্ধতিকে ব্যয়বহুল বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ছক-১ এর উপকরণ (কাপড়, ছোট পুঁতি, সুতা) ব্যবহার করে 'টাই-ডাই' বা বাঁধনি পদ্ধতিতে বস্ত্র রঞ্জন/ছাপা দেওয়া হয়।
ছক-১ ও ছক-২ এ রঙের ব্যবহার:
১. ছক-১ এ ভ্যাট রং ব্যবহার করা হয়েছে: ভ্যাট রং পানিতে সরাসরি দ্রবীভূত হয় না, একে কস্টিক সোডা ও হাইড্রোসালফাইট দিয়ে বিজারিত বা দ্রবণীয় করে কাপড়ে প্রয়োগ করতে হয়। এটি সুতি ও সেলুলোজিক তন্তুর জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং এর রঙের স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতা খুব বেশি।
২. ছক-২ এ প্রুশিয়ান বা বাটিকের জন্য উপযুক্ত রিঅ্যাক্টিভ রং ব্যবহার করা হয়েছে: বাটিকে মোম গলনশীল হওয়ায় ঠাণ্ডা বা সহনীয় তাপমাত্রায় রঙে কাপড় ডোবাতে হয়। প্রুশিয়ান রং সাধারণ বা ঠাণ্ডা পানিতে সহজেই তন্তুর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে স্থায়ী হয়, যা মোমের আবরণ অক্ষত রেখে সফলভাবে রং করার সুযোগ দেয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ছক-১ দ্বারা 'টাই-ডাই' (বাঁধনি) এবং ছক-২ দ্বারা 'বাটিক' পদ্ধতিতে বস্ত্র রঞ্জনের নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এই দুই পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. নকশা সৃষ্টির কৌশল: ছক-১ অর্থাৎ টাই-ডাই পদ্ধতিতে কাপড়ের নির্দিষ্ট স্থান পুঁতি দিয়ে শক্ত করে সুতা দিয়ে বেঁধে রঙে ডোবানো হয়, যার ফলে বাঁধনযুক্ত স্থানে রং প্রবেশ করতে পারে না। অন্যদিকে, ছক-২ অর্থাৎ বাটিক পদ্ধতিতে গলিত মোম ব্রাশ বা জাটিং দিয়ে কাপড়ে নকশা অনুযায়ী লেপে প্রতিরোধক স্তর তৈরি করা হয়।
২. ব্যবহৃত রং ও তাপমাত্রা: ছক-১ এ ব্যবহৃত ভ্যাট রং সাধারণত গরম দ্রবণ বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োগ করা যায়। কিন্তু বাটিকে গরম রং ব্যবহার করলে মোম গলে গিয়ে নকশা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই এতে ঠাণ্ডা পানিতে কার্যকর প্রুশিয়ান রং প্রয়োগ করা হয়।
৩. অলংকরণের ধরন ও মার্বেলিং: বাটিকে মোম শুকিয়ে যাওয়ার পর কাপড় হালকা মুচড়ে ক্র্যাক বা সূক্ষ্ম ফাটল তৈরি করে শিরা-উপশিরার মতো বৈচিত্র্যময় নকশা (ক্র্যাক ইফেক্ট) তৈরি করা যায়, যা টাই-ডাইয়ে সম্ভব নয়। তবে টাই-ডাইয়ে বৃত্তাকার, ডোরাকাটা বা পুঁতির বাঁধনের ফলে আকর্ষণীয় ছোপ ছোপ নকশা পাওয়া যায়।
৪. মোম অপসারণ বনাম বাঁধন খোলা: বাটিকের রং শেষে কাপড় ফুটন্ত পানিতে ফুটিয়ে মোম মুক্ত করতে হয়, কিন্তু টাই-ডাইয়ের ক্ষেত্রে শুকানোর পর সুতা কেটে বাঁধন খুলে ফেললেই নকশা ফুটে ওঠে।সুতরাং, দুটিই রিরোধক (resist dyeing) রঞ্জন পদ্ধতি হলেও নকশা প্রতিহত করার উপকরণ ও রং প্রয়োগের কৌশলে এদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও