হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৫

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

গতকাল হঠাৎ করে ধীরেন্দ্র বাবু মারা গেলে তার পুত্ররা গ্রামবাসীর সহায়তায় পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে। নির্দিষ্ট সময় অশৌচ পালনের পর আদ্যশ্রাদ্ধানুষ্ঠান ঘটা করে আয়োজন করে।

  1. ক)

    মৃত্যু মানে কী?

    (1)
  2. খ)

    জন্মভেদে নয়, বরং কর্মভেদেই বর্ণ বিভাজন'-কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    ধীরেন্দ্র বাবুর পুত্রদের অশৌচ পালনের কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    আদ্যশ্রাদ্ধানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে ধীরেন্দ্র বাবুর পুত্ররা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে- তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মৃত্যু মানে দেহ থেকে আত্মার বহির্গমন।

  2. খ)

    শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে, জন্মভেদে নয়, বরং কর্মভেদেই বর্ণবিভাগ হয়। অর্থাৎ যে যে পেশায় নিয়োজিত, তার বর্ণ সে অনুসারে নির্ধারিত হয়। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ‘চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ’—গুণ ও কর্ম অনুসারে আমি চার বর্ণ সৃষ্টি করেছি। তাই ব্রাহ্মণ সন্তান হলেই ব্রাহ্মণ হয় না এবং সত্ত্বগুণ প্রভাবিত শূদ্রের সন্তানও ব্রাহ্মণ পদবাচ্য হতে পারেন। বর্ণভেদ বংশগত নয়, গুণ ও কর্মগত।

  3. গ)

    ধীরেন্দ্র বাবুর পুত্ররা পিতার মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময় অশৌচ পালন করেছে। এর কারণ নিম্নরূপ।

    ধারণা : ‘শৌচ’ শব্দের অর্থ শুচিতা, তাই ‘অশৌচ’ মানে শুচিতা বা পবিত্রতার অভাব। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতিবর্গের মৃত্যুতে অশৌচ পালন করতে হয়। কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার উপযোগিতা অর্জনের জন্যই এ বিধান। এ সময় হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে জীবনধারণ করা হয়।

    উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : ধীরেন্দ্র বাবু হঠাৎ মারা যান। পিতার মৃত্যুতে পুত্ররা শোকে আচ্ছন্ন ছিল। শোকাচ্ছন্ন মনে সাধন-ভজন বা ঈশ্বরচিন্তায় একাগ্রতা আসে না। অশৌচ পালন করলে সময়ের মধ্যে মন ধীরে ধীরে শান্ত হয়, মনে প্রশান্তি ফিরে আসে এবং পিতার আত্মার শান্তি কামনায় তারা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। এছাড়া অশৌচ পালনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধাও প্রদর্শিত হয়।

    অতএব, মনকে শান্ত করা, শ্রাদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং মৃত পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পুত্ররা অশৌচ পালন করেছে।

  4. ঘ)

    উক্তিটি যথার্থ। আদ্যশ্রাদ্ধ আয়োজনের মাধ্যমে ধীরেন্দ্র বাবুর পুত্ররা পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে।

    ধারণা : ‘শ্রদ্ধা’ শব্দের সঙ্গে ‘অণ্’ প্রত্যয় যোগে শ্রাদ্ধ গঠিত। শ্রদ্ধার সাথে যা দান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ। মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ করণীয়, তাকে আদ্যশ্রাদ্ধ বলে। অশৌচকাল শেষ হওয়ার পরদিন এটি অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্ণ নাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ।

    ১. শ্রদ্ধাসহকারে দান : আদ্যশ্রাদ্ধে মৃত ব্যক্তির নামে মন্ত্রোচ্চারণসহ আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, তাম্বুল, মালা, বিছানা প্রভৃতি উৎসর্গ করা হয়। শেষে পিণ্ডদান করা হয়। পুত্ররা অশৌচ পালনের পর এটি ঘটা করে আয়োজন করেছে, যা তাদের গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ।
    ২. ধর্মীয় গুরুত্ব : এ অনুষ্ঠানে গীতা ও মহাভারতের বিরাট পর্ব পাঠের বিধান আছে। এর মাধ্যমে মৃতের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং সন্তানদের ধর্মীয় কর্তব্য পালিত হয়।
    ৩. পারিবারিক গুরুত্ব : এ উপলক্ষে আত্মীয়স্বজন একত্র হয়, ফলে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয় এবং একজনের প্রতি আরেকজনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাড়ে।
    ৪. সামাজিক গুরুত্ব : গ্রামবাসী পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সহায়তা করেছে এবং শ্রাদ্ধে অংশ নিয়ে পরিবারের দুঃখের সাথে একাত্ম হয়েছে। এতে সামাজিক বন্ধন শক্ত হয়, সবাই সমব্যথী হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সামাজিকতা ও শ্রদ্ধার বীজ অঙ্কুরিত হয়।

    সুতরাং, আদ্যশ্রাদ্ধের মাধ্যমে মৃত পিতার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক ঐক্য প্রকাশ পায়, তাই পুত্রদের আয়োজন তাদের গভীর শ্রদ্ধারই প্রমাণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন