হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: শিক্ষক মশাই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের এক বিশেষ সময়ের কথা বললেন। সেসময় ধর্মানুষ্ঠানের রূপ ছিল যজ্ঞক্রিয়া ও ঋষিগণ ছিলেন সুখবাদী আর জীবনবাদী।দৃশ্যকল্প-২: মোহিনী বাবু একটি ধর্মীয় সংগঠনের সাথে যুক্ত। যার মূলনীতি হলো পাঁচটি। এ সংঘের মূল স্তম্ভ শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ।
- ক)(1)
মতুয়া ধর্মের মূলমন্ত্র কী?
- খ)(2)
ভক্তিযোগ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিক্ষক মশাই, শিক্ষার্থীদের হিন্দুধর্মের বিকাশমান কোন স্তরটির 'কথা বলেছেন? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মোহিনী বাবু যে সংগঠনের সাথে যুক্ত সেই সংগঠনের আদর্শ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মতুয়া ধর্মের মূলমন্ত্র হলো ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হরিনামে মেতে থাকা।
- খ)
ভক্তিকে অবলম্বন করে ঈশ্বরের আরাধনা করাকে ভক্তিযোগ বলে। ভগবানের প্রতি একান্ত প্রেম ও রতিই ভক্তি। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দ্বাদশ অধ্যায়ের নাম ভক্তিযোগ। এই পথে ভগবানের শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ বা শরণাগতিই প্রধান কথা। ভক্ত বিশ্বাস করেন, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান ও করুণাময়। যিনি আসক্তি, ভয় ও ক্রোধ ত্যাগ করে ঈশ্বরের শরণাপন্ন হন, তিনি ভগবৎভাব লাভ করেন।
- গ)
শিক্ষক মশাই হিন্দুধর্মের বিকাশমান স্তরগুলোর মধ্যে বৈদিক যুগের কথা বলেছেন।
পাঠ্যের ধারণা: হিন্দুধর্মের বিকাশমান বৈশিষ্ট্যকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়: বৈদিক যুগ, পৌরাণিক যুগ ও আধুনিক যুগ। বেদ হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থ। বেদ যে যুগে রচিত হয়েছে, তার নাম বৈদিক যুগ। বেদের সংহিতা অংশে ইন্দ্র, অগ্নি, সূর্য, বরুণ প্রভৃতি দেবতার স্তব আছে। মন্ত্র উচ্চারণ করে যাগযজ্ঞের মাধ্যমে অভীষ্ট লাভের প্রার্থনা করা হতো।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সেই সময় ধর্মানুষ্ঠানের রূপ ছিল যজ্ঞক্রিয়া এবং ঋষিগণ ছিলেন সুখবাদী ও জীবনবাদী। পাঠ্যবইয়ে এ কথাগুলো বৈদিক যুগ সম্পর্কেই বলা হয়েছে। যজ্ঞকর্মের অনুশীলন করে মানুষ অভীষ্ট ফল লাভ করতেন। ঋষিরা তেজ, বীর্য, বল ও সহনশীলতার প্রার্থনা করতেন, যার মধ্যে জীবনের সমৃদ্ধি ও জাগতিক কল্যাণের কামনা ফুটে ওঠে। শ্রী (ধনধান্য, যশ) ও ধী (জ্ঞান, প্রজ্ঞা) এই দুটি বস্তুর প্রতি ঋষিদের প্রার্থনা ছিল।
অতএব, শিক্ষক মশাই বৈদিক যুগের কথাই বলেছেন।
- ঘ)
মোহিনী বাবু যে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, সেটি সৎসঙ্গ। উদ্দীপকে বর্ণিত পাঁচটি মূলনীতি এবং শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ এই চার মূল স্তম্ভ সৎসঙ্গের বৈশিষ্ট্য। ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৮৮৮ সালে পাবনা জেলার হিমায়িতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর আদর্শ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয়: সৎসঙ্গের মূল আদর্শ হলো, ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র। ধর্ম ও বিজ্ঞানকে একত্রিত করে জীবন গঠনই সৎসঙ্গীদের আদর্শ।
২. পাঁচটি মূলনীতি: এ সংঘের মূলনীতি হলো যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার। এগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যক্তি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জীবনে এগিয়ে যায়।
৩. চারটি স্তম্ভ: শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ নীতির অনুশীলন সৎসঙ্গের ভিত্তি। এর মাধ্যমে জ্ঞানার্জন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং সুস্থ ও সুসন্তানের জন্ম সম্ভব হয়, যা সমাজকে সমৃদ্ধ করে।
৪. ভালোবাসা ও ঐক্য: সৎসঙ্গ বিশ্বাস করে ভালোবাসাই মহামূল্য, যা দিয়ে শান্তি কেনা যায়। এর দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন ধর্মের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় নন্দিত হচ্ছে। সৎসঙ্গ আদর্শ মানুষ, আদর্শ গৃহী ও আদর্শ ধর্মযাজক গড়তে চায়।সুতরাং, সৎসঙ্গের আদর্শ ধর্মচর্চাকে জীবনমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক করে সমাজ উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবকল্যাণে অবদান রাখে; মোহিনী বাবুর সংগঠনের আদর্শও তাই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও