ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন

মিসেস শিরীন রহমান ২০২২ সালে ৫ কাটা জমি বিক্রি করে ১ কোটি টাকা পান। তিনি তার টাকা একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। যার ফলে তিনি কোম্পানিটির মালিকানা লাভ করেন এবং অধিক আয় করেন। কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিবছর শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা লভ্যাংশ দিয়ে আসছিল। কিন্তু এ বছর লাভ বেশি হওয়ায় অর্জিত মুনাফার ৫০% লভ্যাংশ প্রদান করে।

  1. ক)

    স্টক এক্সচেঞ্জ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিনিয়োগের জন্য ডিবেঞ্চারের তুলনায় বন্ড অধিক নিরাপদ কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    মিসেস শিরীন রহমান কোন ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কোম্পানিটির লভ্যাংশ নীতি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, বন্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ নিয়মিত ক্রয়-বিক্রয় হয়, তাকে স্টক এক্সচেঞ্জ বলে।

  2. খ)

    বন্ড সাধারণত সরকার বা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ইস্যু করে এবং তা প্রায়ই নির্দিষ্ট সম্পদ বা সরকারি নিশ্চয়তা দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। এতে সুদ ও আসল পরিশোধ প্রায় নিশ্চিত। ডিবেঞ্চারের ক্ষেত্রে এ ধরনের জামানত তুলনামূলক কম থাকে, ফলে ঝুঁকি বেশি। তাই বিনিয়োগের জন্য ডিবেঞ্চারের তুলনায় বন্ড অধিক নিরাপদ।

  3. গ)

    মিসেস শিরীন রহমান কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে মালিকানা লাভ করেছেন এবং লভ্যাংশ পান, যার পরিমাণ মুনাফার ওপর নির্ভর করে। এটি সাধারণ শেয়ার (Ordinary Share)।

    ১. সাধারণ শেয়ারধারীরা কোম্পানির প্রকৃত মালিক।
    ২. তারা ভোটাধিকার ও কোম্পানি পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
    ৩. তাদের লভ্যাংশ নির্দিষ্ট নয়; মুনাফা অনুযায়ী কম-বেশি হয়।
    ৪. উদ্দীপকে কোম্পানি আগে ১৫ টাকা এবং এ বছর মুনাফার ৫০% লভ্যাংশ দিয়েছে, অর্থাৎ হার পরিবর্তিত হয়েছে।

    অতএব, শিরীন সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কোম্পানিটি আগে প্রতিবছর শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা নির্দিষ্ট লভ্যাংশ দিত। এটি স্থির লভ্যাংশ নীতি। এ বছর মুনাফা বেশি হওয়ায় অর্জিত মুনাফার ৫০% লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে, যা আনুপাতিক লভ্যাংশ নীতি।

    ১. স্থির নীতির সুবিধা: শেয়ারহোল্ডাররা নিয়মিত নির্দিষ্ট আয় পান এবং কোম্পানির প্রতি আস্থা বাড়ে।
    ২. আনুপাতিক নীতির সুবিধা: মুনাফা বাড়লে শেয়ারহোল্ডাররা বেশি লভ্যাংশ পান। মুনাফা কমলে কোম্পানির ওপর চাপ কমে।
    ৩. অসুবিধা: আনুপাতিক নীতিতে লভ্যাংশ বছরে বছরে ওঠানামা করে, ফলে আয় অনিশ্চিত হয়। অন্যদিকে স্থির নীতিতে মুনাফা কমলেও লভ্যাংশ দিতে হয়।
    ৪. ভারসাম্য: কোম্পানি মুনাফার একটি অংশ লভ্যাংশ হিসেবে দিয়ে বাকি অংশ পুনর্বিনিয়োগে রাখে, যা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক।

    সুতরাং, মুনাফা বেশি হওয়ার বছরে আনুপাতিক নীতি গ্রহণ কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডার উভয়ের জন্য ইতিবাচক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন