বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
তমদ্দুন মজলিশ কী?
- খ)(2)
২১ শে ফেব্রুয়ারিকে "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" বলা হয় কেন?
- গ)(3)
১নং ছকে উল্লিখিত মহীয়সী নারীরা কোন আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"তথ্যছক-২ এর নির্দেশিত নির্বাচনটি ছিল অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালিদের ব্যালট বিপ্লব"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
তমুদ্দুন মজলিস হলো ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন, যার উদ্যোগে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়।
- খ)
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি মায়ের ভাষা বাংলার জন্য আত্মত্যাগ করে। এ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সর্বসম্মতিক্রমে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে দিবসটি সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে। এতে সব জাতির মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়, তাই একে শহিদ দিবস না বলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলা হয়।
- গ)
তথ্যছক-১-এ উল্লিখিত হাজেরা মাহমুদ, জোবেদা খাতুন চৌধুরী, শাহেরা বানু, রাবেয়া খাতুন, নিবেদিতা নাগ ও সারা তৈফুর প্রমুখ মহীয়সী নারী ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন।
ভাষা আন্দোলনে তৎকালীন নারী সমাজ মিছিল, স্লোগান ও সভা-সমিতিতে পুরুষের পাশাপাশি সক্রিয় ছিলেন। ঢাকার স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা পোস্টার ও ফেস্টুন লিখে আন্দোলনকে এগিয়ে নেন। সিলেটে হাজেরা মাহমুদ, জোবেদা খাতুন চৌধুরী, শাহেরা বানু, রাবেয়া খাতুনসহ অনেকে সংগ্রামী ভূমিকা রাখেন। তাঁদের অংশগ্রহণে আন্দোলনের গতি ও ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পায়।
- ঘ)
তথ্যছক-২-এ নির্দেশিত নির্বাচন হলো ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন। এটি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির ব্যালট বিপ্লব ছিল।
১. বঞ্চনার বিরুদ্ধে ঐক্য: মুসলিম লীগের ব্যর্থ শাসন, অন্তর্কোন্দল ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে মুসলিম লীগবিরোধী দলগুলো যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। তাদের প্রতীক ছিল নৌকা এবং নির্বাচনি ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
২. ২১ দফায় বাঙালির দাবি: এতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা, জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করা, পাটশিল্প জাতীয়করণ, শহিদ মিনার নির্মাণ, ২১শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা এবং পূর্ব বাংলার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল।
৩. ফলাফল: ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি এবং মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন পায়। ভোটের মাধ্যমে বাঙালি মুসলিম লীগ ও অবাঙালি নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানায়।সুতরাং, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দেয়, তাই এ নির্বাচনকে ব্যালট বিপ্লব বলা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও