হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৫
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
প্রভাবশালী ও বিত্তশালী জান্দাল মনে করে নিজেই সর্বেসর্বা। সে ঈশ্বর বলতে কিছু বোঝে না। সে মনে করে সে নিজেই ঈশ্বর এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু তার ছেলে অসীম ঈশ্বরভক্ত। সে ঈশ্বর ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জান্দাল তাকে অনেকবার মারতে চাইলেও সে বেঁচে যায়। তার বিশ্বাস ঈশ্বরই তাকে রক্ষা করেন এবং ঈশ্বর সর্বময়।
- ক)(1)
প্রহ্লাদ কে ছিলেন?
- খ)(2)
ধার্মিকের স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
পাঠ্যবইয়ের কোন চরিত্রের সাথে জান্দাল চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যায় তা আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
ঈশ্বর সর্বময় এবং তিনিই ধার্মিককে রক্ষা করেন। অসীমের এই বিশ্বাস ধর্মের জয় উপাখ্যানের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
প্রহ্লাদ ছিলেন দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর পুত্র এবং একজন পরম হরিভক্ত বালক।
- খ)
যিনি ধর্মের দশটি লক্ষণ—ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয়-নিগ্রহ, ধী, বিদ্যা, সত্য ও অক্রোধ—নিজের জীবনে অনুসরণ করেন, তিনিই ধার্মিক। ধার্মিক ব্যক্তি কাম-ক্রোধ প্রভৃতি প্রবৃত্তি দমন করেন, সত্যপ্রিয় ও জ্ঞানী হন এবং বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের আহ্বানে চলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর বাস করেন; তাই ত্যাগের মাধ্যমে ভোগ করেন এবং জীবসেবাকে পরম কর্তব্য মনে করেন। তিনি সদা সন্তুষ্ট ও প্রফুল্ল থাকেন এবং সকল কর্মফল ঈশ্বরে সমর্পণ করেন।
- গ)
পাঠ্যবইয়ের হিরণ্যকশিপু চরিত্রের সাথে উদ্দীপকের জান্দাল চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।
হিরণ্যকশিপুর পরিচয় : ‘ধর্মের জয়’ উপাখ্যানে হিরণ্যকশিপু ছিলেন সত্যযুগের দৈত্যরাজ। তিনি হরিবিদ্বেষী ছিলেন এবং ঈশ্বরের শক্তিকে অস্বীকার করে নিজেকেই সর্বশক্তিমান মনে করতেন। তাঁর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন হরিভক্ত। পুত্রের এ ভক্তি তিনি সহ্য করতে পারেননি এবং তাকে হত্যা করার জন্য বিষমিশ্রিত অন্ন, হাতির পায়ের নিচে ফেলা, বিষধর সাপের মধ্যে নিক্ষেপ, পর্বত থেকে সমুদ্রে ফেলা প্রভৃতি উপায় অবলম্বন করেন।
জান্দালের সাথে মিল : উদ্দীপকের প্রভাবশালী ও বিত্তশালী জান্দাল ঈশ্বরকে মানে না; সে নিজেকেই ঈশ্বর ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মনে করে। তার ঈশ্বরভক্ত ছেলে অসীম ঈশ্বর ছাড়া কিছু বোঝে না বলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অনেকবার মারতে চেয়েছে। ঠিক একইভাবে হিরণ্যকশিপুও ঈশ্বরবিদ্বেষী ছিলেন, নিজের ক্ষমতার অহংকার করতেন এবং ভক্ত পুত্র প্রহ্লাদকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
অতএব, জান্দাল চরিত্রটি পাঠ্যবইয়ের হিরণ্যকশিপু চরিত্রের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
‘ঈশ্বর সর্বময় এবং তিনিই ধার্মিককে রক্ষা করেন’—অসীমের এ বিশ্বাস ‘ধর্মের জয়’ উপাখ্যানের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ। মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ধর্ম রক্ষিত হলে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করেন এবং ধর্মেরই জয় হয়।
উপাখ্যানের সারকথা : দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু হরিভক্ত পুত্র প্রহ্লাদকে হত্যার জন্য বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। প্রহ্লাদ জানান, তিনি ধর্মের বলে এমন করছেন এবং ভগবান সর্বত্র আছেন। ক্রুদ্ধ হিরণ্যকশিপু স্ফটিক স্তম্ভে আঘাত করলে ভগবান শ্রীহরি নৃসিংহ অবতাররূপে স্তম্ভ থেকে বেরিয়ে এসে নখ দিয়ে হিরণ্যকশিপুকে বধ করেন।
১. ঈশ্বরের সর্বব্যাপিতা : প্রহ্লাদ বলেছিলেন, ঈশ্বর সর্বত্র থাকেন এবং সর্বত্র থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন। স্ফটিক স্তম্ভ থেকে নৃসিংহের আবির্ভাব তা প্রমাণ করে। অসীমের ‘ঈশ্বর সর্বময়’ বিশ্বাসও একই।
২. ধার্মিকের রক্ষা : শূল, বিষ, হাতি, সাপ ও সমুদ্র—কোনো কিছুতেই প্রহ্লাদের ক্ষতি হয়নি। উদ্দীপকেও জান্দাল অনেকবার অসীমকে মারতে চাইলেও সে বেঁচে যায়। দুটি ঘটনাতেই ঈশ্বর ভক্তকে রক্ষা করেছেন।
৩. অধর্মের পরাজয় : ধর্ম নষ্ট হলে ধর্মই ধর্মনাশকারীকে বিনাশ করে। হিরণ্যকশিপুর পরিণতি এর প্রমাণ। অহংকারী জান্দালের জন্যও এ শিক্ষা প্রযোজ্য।
৪. ভক্তির দৃঢ়তা : ধার্মিক সাময়িকভাবে কষ্ট পেতে পারেন, কিন্তু পরিণামে ধর্মের জয় হয়। প্রহ্লাদ ভগবানের কাছে শুধু অবিচল ভক্তি চেয়ে নিয়েছিলেন; অসীমও ঈশ্বর ছাড়া কিছু বোঝে না।
সুতরাং, ধর্মের জয় উপাখ্যান প্রমাণ করে, ঈশ্বর ধার্মিককে রক্ষা করেন এবং অধর্মের পরাজয় অনিবার্য। অসীমের বিশ্বাস তাই সত্য ও শিক্ষণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও