গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

রহমান সাহেব কিছুদিন যাবৎ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। যেমন ওজন বেড়ে যাওয়া, শরীর দুর্বল লাগা ইত্যাদি। তার সমস্যার কারণ জানতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার তাকে মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহারের পরামর্শ দেন।

  1. ক)

    কোন রোগে ননী তোলা দুধ খাওয়া ভালো?

    (1)
  2. খ)

    আঁশযুক্ত খাবার গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রহমান সাহেব কোন রোগে ভুগছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রহমান সাহেবের রোগটি নিয়ন্ত্রণে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের বিকল্প নেই।— তুমি কি এর সাথে একমত? এর সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হৃদরোগ (এবং রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকা বা স্থূলতার) ক্ষেত্রে ননী তোলা দুধ খাওয়া ভালো, কারণ এতে চর্বি কম থাকে।

  2. খ)

    আঁশযুক্ত খাবার (যেমন শাকসবজি, ডাল, ফলের খোসা, লাল আটা) হজম হয় না, কিন্তু দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এটি অন্ত্রের নড়াচড়া বাড়িয়ে মল নরম রাখে ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। আঁশ খাদ্য থেকে গ্লুকোজ ও কোলেস্টেরলের শোষণ ধীর করে, ফলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এটি পেট ভরা রাখে বলে অতিরিক্ত খাওয়া ও স্থূলতা কমাতেও সাহায্য করে।

  3. গ)

    রহমান সাহেব সম্ভবত ডায়াবেটিস মেলিটাস (বহুমূত্র) রোগে ভুগছেন।

    অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন কম নিঃসৃত হলে বা দেহ ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে না পারলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। কোষ গ্লুকোজ থেকে শক্তি পায় না বলে শরীর দুর্বল লাগে। অতিরিক্ত শর্করা ও খাবার গ্রহণ এবং কম পরিশ্রমে ওজন বাড়ে; তাই ডাক্তার মিষ্টি জাতীয় খাবার বর্জন করতে বলেছেন। এ রোগে সাধারণত ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত পিপাসা ও ক্ষুধা এবং ক্ষত দেরিতে শুকানোর লক্ষণ দেখা যায়।

  4. ঘ)

    আমি এর সাথে একমত। ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না, কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    ১. খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: মিষ্টি, চিনি, ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও পরিমিত শর্করা গ্রহণ করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া দরকার।

    ২. ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: প্রতিদিন হাঁটা বা ব্যায়াম করলে রক্তের গ্লুকোজ কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ৩. চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ: চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়া, নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা, পর্যাপ্ত ঘুম ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা প্রয়োজন।

    সুতরাং, নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও চিকিৎসা মেনে চললেই রহমান সাহেব রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন; এর কোনো বিকল্প নেই।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন