হিন্দু ধর্ম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
বসন্ত রোগের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষে রূপা দেবী এক বিশেষ শক্তির পূজা করেন। এ পূজায় বিভিন্ন রকমের ঠান্ডা জাতীয় ফলের প্রয়োজন হয়। এছাড়া তিনি পূজার অন্যান্য নিয়ম-কানুনও সঠিকভাবে অনুসরণ করেন। অন্যদিকে, তার বান্ধবী শিখা দেবী সন্তান লাভের প্রত্যাশায় হেমন্তকালে ঈশ্বরের এক বিশেষ শক্তির পূজার আয়োজন করেন। শুধু তাই নয় এই পূজার মাধ্যমে তিনি একদিকে বিনয়ী অন্যদিকে অন্যায় অবিচারের প্রতি সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা পান।
- ক)(1)
দুর্গ কাকে বলে?
- খ)(2)
দেবী দুর্গাকে ত্রিনয়না বলা হয় কেন?
- গ)(3)
রূপা দেবী যে বিশেষ শক্তির পূজা করেন তাঁর পরিচয় বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
শিখা দেবীর আয়োজিত পূজার গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে স্থানে গমন করা অত্যন্ত দুরূহ, তাকে দুর্গ বলে।
- খ)
দেবী দুর্গার দশটি হাত এবং তিনটি চোখ রয়েছে, তাই তাঁকে ত্রিনয়না বলা হয়। তাঁর বাম চোখ চন্দ্র, ডান চোখ সূর্য এবং কপালের ওপর কেন্দ্রীয় চোখটি জ্ঞান বা অগ্নিকে নির্দেশ করে। এই তিন চোখের মাধ্যমে তিনি সকল কিছু দেখেন এবং জগতের মঙ্গল সাধন করেন।
- গ)
রূপা দেবী বসন্ত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে বিশেষ শক্তির পূজা করেন, তিনি দেবী শীতলা।
শীতলা দেবীর পরিচয়: দেবী শীতলা লৌকিক দেবী। বেদ ও পুরাণে যাঁদের কথা বলা হয়নি, কিন্তু ভক্তরা যাঁদের পূজা করেন, তাঁদের লৌকিক দেবতা বলে। মনসা ও দক্ষিণ রায়ের মতো শীতলাও এই শ্রেণির দেবী। গ্রামবাংলায় তিনি 'ঠাকুরানি' নামে পরিচিত এবং শান্তির দেবী হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। বসন্ত, কলেরার মতো সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করেন বলে মানুষ বিশ্বাস করে। ধ্যানমন্ত্র অনুযায়ী তিনি গর্দভবাহনা। তাঁর হাতে কলস ও সম্মার্জনী (ঝাঁটা) এবং মাথায় কুলা থাকে।
উদ্দীপকের সাথে সংযোগ: উদ্দীপকে রূপা দেবী বসন্ত রোগ থেকে রক্ষা পেতে ঠান্ডা জাতীয় ফল দিয়ে বিশেষ শক্তির পূজা করেন। শীতলা নাম থেকেই বোঝা যায় তিনি শীতলতার প্রতীক, তাই তাঁর পূজায় ঠান্ডা জাতীয় উপকরণ ব্যবহৃত হয়। রোগমুক্তির জন্য পূজা করা এবং ঠান্ডা ফল ব্যবহার করা এই দুটিই শীতলা পূজার সাথে মিলে যায়।
অতএব, রূপা দেবী শীতলা দেবীর পূজা করেন।
- ঘ)
শিখা দেবী হেমন্তকালে সন্তান লাভের আশায় যে পূজা করেন তা কার্তিক পূজা। এই পূজার মাধ্যমে তিনি বিনয়ী হওয়ার এবং অন্যায়ের প্রতি সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা পান। কার্তিক পূজার গুরুত্ব ও প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
কার্তিক দেবের পরিচয়: কার্তিক ভগবান শিবের পুত্র এবং দেবসেনাপতি। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা তাঁকে রক্ষাকর্তা হিসেবে পূজা করেন। ব্রহ্মা ও সরস্বতীর মতো তাঁর পূজাও বিশেষ তিথিতে করা হয়।
১. সন্তান কামনায় পূজা: নিঃসন্তান দম্পতি ও সন্তান প্রত্যাশী নারীরা বিশ্বাস করেন, কার্তিক দেবের কৃপায় সুসন্তান লাভ হয়। শিখা দেবীও এই প্রত্যাশা নিয়ে পূজার আয়োজন করেছেন। এটি পারিবারিক জীবনে এই পূজার গুরুত্বের পরিচয় দেয়।
২. অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি: কার্তিক দেবসেনাপতিরূপে অসুর ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দেবতাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর পূজা ভক্তকে সাহসী করে এবং অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শক্তি জোগায়। উদ্দীপকে শিখা দেবী এই প্রেরণাই পাচ্ছেন।
৩. বিনয় ও শৃঙ্খলার শিক্ষা: সেনাপতি হয়েও কার্তিক শান্ত ও সংযত। তাঁর আদর্শ থেকে ভক্ত বিনয়, সংযম ও কর্তব্যনিষ্ঠার শিক্ষা পান।
৪. সামাজিক প্রভাব: পূজাকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা মিলিত হন। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
সুতরাং, কার্তিক পূজা পারিবারিক জীবনে আশা ও আনন্দ আনে এবং ব্যক্তির মধ্যে সাহস ও বিনয়ের মতো নৈতিক গুণ জাগ্রত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও