যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
রনি বললো, "হাতি হলো চতুষ্পদ জীব। তুলি বললো, "না, হাতি হলো হস্তী।"
- ক)(1)
যৌক্তিক সংজ্ঞা কী?
- খ)(2)
যৌক্তিক সংজ্ঞায় কেন নিয়ম মেনে চলতে হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রনির উত্তিতে যৌক্তিক সংজ্ঞার কোন অনুপপত্তি ঘটেছে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে তুলির বক্তব্য যে বিষয়কে নির্দেশ করে তা উদাহরণসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট বিবৃতিকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক সংজ্ঞায় কোনো পদের অর্থকে সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং সুনির্দিষ্ট করতে হয় যাতে পদটির ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ সম্পর্কে বিভ্রান্তি না ঘটে। নিয়ম মেনে না চললে সংজ্ঞায় বাহুল্য, অবান্তর, অতিব্যাপ্ত, অব্যাপ্ত বা চক্রক সংজ্ঞাজনিত ত্রুটি বা অনুপপত্তি দেখা দেয়। তাই পদের সঠিক অর্থ নির্ধারণ ও যোগাযোগের স্বচ্ছতার স্বার্থে যৌক্তিক সংজ্ঞায় নিয়ম মেনে চলতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রনির উক্তিতে যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘনজনিত 'অতিব্যাপ্ত সংজ্ঞা' (Too Broad Definition) অনুপপত্তি ঘটেছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদের সংজ্ঞায় কেবল পদটির আসন্নতম জাতি (proximate genus) এবং লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ (differentia) উল্লেখ করতে হয়, অর্থাৎ সংজ্ঞার্থ ও সংজ্ঞেয় পদের ব্যক্ত্যর্থ সমান হতে হয়। রনি 'হাতি'-র সংজ্ঞায় লক্ষণ উল্লেখ না করে কেবল আসন্নতম জাতি বা উচ্চতর শ্রেণি হিসেবে 'চতুষ্পদ জীব' বলেছে। কিন্তু চতুষ্পদ জীব শুধু হাতি নয়—বাঘ, গরু, ঘোড়া ইত্যাদিও চতুষ্পদ জীব। ফলে সংজ্ঞার্থ পদের ব্যক্ত্যর্থ সংজ্ঞেয় পদের ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। তাই এটি অতিব্যাপ্ত সংজ্ঞা অনুপপত্তি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তুলির বক্তব্য ("হাতি হলো হস্তী") যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘনজনিত 'চক্রক সংজ্ঞা' (Circular Definition) অনুপপত্তিকে নির্দেশ করে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম বিশ্লেষণ:
সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী, যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, সেই পদটি বা তার কোনো সমার্থক বা প্রতিশব্দ সংজ্ঞায় ব্যবহার করা যাবে না; বরং সহজ ও স্পষ্ট পদ ব্যবহার করতে হবে।তুলির বক্তব্যের মূল্যায়ন:
তুলি 'হাতি' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তার পরিচিত প্রতিশব্দ 'হস্তী' ব্যবহার করেছে। এতে হাতির জাত্যর্থের কোনো নতুন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না, বরং বিষয়টি ঘোলাটে ও চক্রাকার আবর্তনে আটকে থাকে। এ ধরনের সংজ্ঞাকে চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি বলা হয়।উদাহরণ:
১. "মানুষ হয় মানবজাতি" বা "বৃক্ষ হলো গাছ"।
২. "জ্ঞান হলো জ্ঞানের বিষয় জানা"।
এসব ক্ষেত্রে পদের অভ্যন্তরীণ গুণ বা লক্ষণ প্রকাশ পায় না, শুধুই সমার্থক শব্দের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তুলির বক্তব্যটিও ঠিক এই রূপ চক্রক সংজ্ঞারই দৃষ্টান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও