ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব সালাম একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি প্রতিষ্ঠানের ধরন ও গুণাগুণ বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেন এবং কর্মীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজগুলো সম্পাদন করার জন্য তাদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বণ্টন করেন। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য উপযুক্ত বেতন ও মজুরি কাঠামো এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রতি বিশেষ নজর রাখেন, যা কর্মীদের চাহিদা পূরণে সমর্থ হবে। এতে প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রতি কর্মীদের মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিষ্ঠান ব্যাপক সফলতা অর্জন করে।

  1. ক)

    CEO-এর পূর্ণরূপ লেখো।

    (1)
  2. খ)

    কর্মী নির্বাচন একটি নেতিবাচক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথমত ব্যবস্থাপনার কোন নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'জনাব সালাম পরবর্তীতে তার কাজের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার যে নীতিকে বাস্তবায়ন করেছেন তা প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও কর্মীর মনোযোগ উভয়ই বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে'- উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে উক্তিটির সার্থকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    CEO-এর পূর্ণরূপ হলো Chief Executive Officer (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কর্মী নির্বাচনকে একটি নেতিবাচক প্রক্রিয়া বলা হয়, কারণ এ প্রক্রিয়ায় মোট আবেদনকারীদের মধ্য থেকে অযোগ্য ও কম যোগ্য প্রার্থীদের ধারাবাহিকভাবে ছাঁটাই বা বাদ দিয়ে কেবল প্রকৃত যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থীদের বাছাই করা হয়।

    কর্মী সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় চাকরির জন্য বিপুলসংখ্যক প্রার্থীকে আকৃষ্ট করে ইতিবাচকভাবে আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়। পক্ষান্তরে, নির্বাচনে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা (যেমন—লিখিত, মৌখিক, ব্যবহারিক) ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ অযোগ্য প্রার্থীকে বর্জন বা বাতিল করে সীমিতসংখ্যক প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়। যেহেতু এখানে আবেদনকারীদের সংখ্যা হ্রাস করার মাধ্যমে বাদ দেওয়ার নীতি প্রয়োগ করা হয়, তাই কর্মী নির্বাচনকে নেতিবাচক প্রক্রিয়া বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথমত ব্যবস্থাপনার 'কার্যবিভাজন বা শ্রমবিভাজনের নীতি' (Principle of Division of Work) অনুসরণ করা হয়েছিল।

    প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজকে ছোট ছোট অংশে বা বিভাগে ভাগ করে কর্মীদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করাকে কার্যবিভাজনের নীতি বলে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো বিশেষায়ন অর্জন করা, যাতে কর্মীরা নিজ নিজ কাজে পারদর্শী হয়ে ওঠে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব সালাম প্রতিষ্ঠানের ধরন ও গুণাগুণ বিবেচনা করে কাজগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেন এবং কর্মীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজগুলো সম্পাদন করার জন্য তাদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বণ্টন করেন। হেনরি ফেয়ল বর্ণিত নীতিমালার মধ্যে এটি সরাসরি কার্যবিভাজনের নীতিকে নির্দেশ করে। এর ফলে কর্মীরা নিজ কাজের ওপর বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যদক্ষতা বাড়ে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বক্তব্যে জনাব সালাম পরবর্তীতে যে নীতিটি বাস্তবায়ন করেছেন, তা হলো 'ন্যায্য বা উপযুক্ত পারিশ্রমিকের নীতি' (Principle of Fair Remuneration)। উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে সার্থকতা বহন করে।

    হেনরি ফেয়লের মতে, কর্মীদের প্রদত্ত সেবা ও মেধার বিপরীতে এমন পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা উচিত যা তাদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করে এবং সন্তোষজনক হয়। উপযুক্ত বেতন ও আর্থিক-অনার্থিক সুযোগ-সুবিধা কর্মীদের কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ও অনুপ্রেরণা তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা রাখে।

    উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, জনাব সালাম কর্মীদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বণ্টনের পর তাদের জন্য উপযুক্ত বেতন, মজুরি কাঠামো এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রতি বিশেষ নজর দেন, যা কর্মীদের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়। এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে কর্মীদের কাজের প্রতি মনোযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক সফলতা লাভ করে।

    উপযুক্ত পারিশ্রমিক নিশ্চিত না হলে কর্মীরা কাজে নিরুৎসাহিত হয়, প্রতিষ্ঠানে কর্মীর অসন্তোষ ও ঘূর্ণায়মানতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু জনাব সালাম কর্মীদের সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে তাদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে উৎসাহিত করেছেন। সুতরাং, বলা যায় যে জনাব সালামের বাস্তবায়িত 'উপযুক্ত পারিশ্রমিকের নীতি' কর্মীদের কাজের প্রতি মনোযোগী করা এবং প্রতিষ্ঠানের সফলতা অর্জনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন