ব্যবসায় উদ্যোগ • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

জনাব রকি নিজ উদোগে একটি ব্যবসায় গঠন করেন এবং নিজেই পরিচালনা করেন। ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি নিজেকেই বহন করতে হয়। অপরদিকে শফিক, রফিক এবং বরকত তিনবন্ধু চুক্তিবদ্ধ হয়ে সমহারে মূলধন নিয়ে ব্যবসায় গঠন করেন। কয়েক বছর পর শফিক অবসর নেন কিন্তু ব্যবসায় মূলধন রয়ে যায়। এখন রফিক এবং বরকত ব্যবসায় নিয়ে ভাবছেন।

  1. ক)

    পরিমেল নিয়মাবলি কী?

    (1)
  2. খ)

    রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শফিক কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে প্রথম পর্যায় ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল বিষয় যে দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে পরিমেল নিয়মাবলি বলে।

  2. খ)

    যে ব্যবসায় সরকারের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়, তাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে। এর প্রধান উদ্দেশ্য শুধু মুনাফা অর্জন নয়, জনকল্যাণ ও জনসেবা। এখানে মূলধন সরকার সরবরাহ করে এবং পরিচালনার দায়িত্ব সরকার বা সরকার-নিয়োজিত কর্তৃপক্ষের ওপর থাকে। যেমন বাংলাদেশ বিমান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।

  3. গ)

    উদ্দীপকে শফিক আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার (Quasi Partner)।

    যে অংশীদার ব্যবসায় থেকে অবসর নেওয়ার পরও মূলধন তুলে না নিয়ে ঋণ হিসেবে ব্যবসায়ে জমা রাখেন, তাকে আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার বলা হয়। শফিক, রফিক ও বরকত সমহারে মূলধন দিয়ে ব্যবসায় গড়েন। কয়েক বছর পর শফিক অবসর নেন, কিন্তু তাঁর মূলধন ব্যবসায়ে থেকে যায়। প্রকৃতপক্ষে তিনি এখন ব্যবসায়ের পাওনাদার। তবে গণবিজ্ঞপ্তি না দিলে ব্যবসায়ের কাজের জন্য তৃতীয় পক্ষের কাছে তিনি দায়ী হতে পারেন।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায় হলো রকির একমালিকানা ব্যবসায় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যবসায় হলো শফিক, রফিক ও বরকতের অংশীদারি ব্যবসায়। দুটি ব্যবসায়ের মধ্যে প্রধান বৈসাদৃশ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো।

    ১. মালিকানা ও গঠন: একমালিকানা ব্যবসায় একজন ব্যক্তির মালিকানায় গঠিত। আইনগত ঝামেলা নেই। অংশীদারি ব্যবসায় কমপক্ষে ২ জনের চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়।
    ২. মূলধন: একমালিকানায় মালিকের একার সঞ্চয় ও ঋণ থেকে স্বল্প মূলধন জোগাড় হয়। অংশীদারিতে সকলের মূলধন একত্র হয়, তাই মূলধন তুলনামূলক বেশি।
    ৩. লাভ-ক্ষতি ও ঝুঁকি: একমালিকানায় সকল লাভ-ক্ষতি ও ঝুঁকি একা মালিক বহন করেন। অংশীদারিতে চুক্তি অনুযায়ী (চুক্তিতে না থাকলে সমান হারে) লাভ-ক্ষতি ভাগ হয়।
    ৪. দায়: একমালিকানায় মালিকের দায় অসীম। অংশীদারি ব্যবসায়ে সাধারণ অংশীদারদের দায় ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে অসীম।
    ৫. স্থায়িত্ব: একমালিকানার স্থায়িত্ব মালিকের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। অংশীদারি ব্যবসায় পারস্পরিক আস্থা, চুক্তি এবং অংশীদারদের অবসর বা মৃত্যুর ওপর নির্ভরশীল।

    সুতরাং, একমালিকানা সহজ ও একক সিদ্ধান্তের ব্যবসায়, আর অংশীদারি ব্যবসায় বেশি মূলধন ও ঝুঁকি ভাগাভাগির সুযোগ দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন