বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
"নমি আমি প্রতিজনে, আদ্বিত্য-চন্ডাল প্রভু, ক্রীতদাস!সিন্ধুমূলে জলবিন্দু, বিশ্বমূলে অণু; সমগ্রে প্রকাশ! নমি কৃষি-তন্তজীবী, স্থপতি, তক্ষক, কর্ম চর্মকার! কত রাজ্য কত রাজ গড়িছ নীরবেহে পূজ্য, হে প্রিয়! একত্বে বরেণ্য তুমি, শরণ্য এককে- আত্মার আত্মীয়।"
- ক)(1)
ঐকতান শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
"যেথা পাই চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী, কুড়াইয়া আনি"- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'ঐকতান' কবিতার কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ পংক্তি দুটি 'ঐকতান' কবিতার মূলসুরকে ধ্বনিত করে তোলে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐকতান শব্দের অর্থ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরের সমন্বয়ে সৃষ্টি সম্মিলিত সুর বা সমবেত বাদন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"যেথা পাই চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী, কুড়াইয়া আনি"— বলতে কবি অন্যান্য কবি বা লেখকের সৃষ্টিকর্ম থেকে বিচিত্র জীবন ও জগতের সুন্দর ও বর্ণনামূলক উপাদান সানন্দে সংগ্রহ করাকে বুঝিয়েছেন।
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজের রচনার সীমাবদ্ধতা অকপটে স্বীকার করেছেন। সমাজের সর্বত্র কবির নিজের বিচরণ ছিল না বলে তিনি অন্য সাহিত্যিকদের চিত্রধর্মী বাস্তব রচনায় পৃথিবীর বিচিত্র জীবনের যে রূপ পেতেন, তা পরম শ্রদ্ধায় নিজের সাহিত্যবোধে ধারণ ও গ্রহণ করতেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'ঐকতান' কবিতার নিম্নবর্গের শ্রমজীবী ও ব্রাত্যজনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং মানবপ্রেমের বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ঐকতান' কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বীকার করেছেন যে উচ্চশ্রেণির মানুষ হওয়ায় তিনি সমাজের কৃষক, মজুর, তাঁতি তথা খেটে খাওয়া ব্রাত্য মানুষের জীবনের গভীরে প্রবেশ করতে পারেননি। অথচ তারাই সমাজের মূল ভিত্তি। কবি তাদের জীবনকথা সাহিত্যের মূলধারায় আনার জন্য উদগ্রীব ছিলেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, কবি কৃষি-তন্তজীবী (কৃষক ও তাঁতি), স্থপতি, কাঠমিস্ত্রি, কামার ও চর্মকারদের সমাজের প্রকৃত রূপকার হিসেবে বন্দনা করেছেন এবং প্রতিটি সাধারণ মানুষকে 'আত্মার আত্মীয়' বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষের এই শ্রম ও অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর দিকটি 'ঐকতান' কবিতার শ্রমজীবী মানুষের প্রতি কবির মমত্ববোধের সঙ্গে পূর্ণ সাদৃশ্য বহন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ পংক্তি দুটিতে সকল স্তরের মানুষকে গভীর শ্রদ্ধায় 'আত্মার আত্মীয়' হিসেবে বরণ করার যে উদার মানবতাবাদী সুর ব্যক্ত হয়েছে, তা 'ঐকতান' কবিতার মূলভাবের সঙ্গে গভীর ঐক্য স্থাপন করে।
'ঐকতান' কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সমগ্র মানবতার সাথে একাত্ম হতে চেয়েছেন। তিনি কামনা করেছেন এমন এক অনাগত কবিকে, যিনি সমাজের অবহেলিত ও ব্রাত্য মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে তাদের জীবনের সত্য ও সুখ-দুঃখের গান সাহিত্যে রূপায়িত করবেন। কবির মূল লক্ষ্য ছিল সব মানুষের সম্মিলনে এক সার্বিক ঐকতান রচনা করা।
উদ্দীপকের শেষ চরণে বলা হয়েছে— "হে পূজ্য, হে প্রিয়! একত্বে বরেণ্য তুমি, শরণ্য এককে- আত্মার আত্মীয়"। এখানে সমাজের নির্মাতা শ্রমজীবী মানুষদের পূজ্য, প্রিয় এবং পরম আত্মীয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সামগ্রিক ঐক্যের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
'ঐকতান' কবিতার কবিও সমাজে উপেক্ষিত এই শ্রমজীবীদের জীবনের পূর্ণ সত্য প্রকাশকে সাহিত্যের পরম সার্থকতা হিসেবে দেখেছেন। সুতরাং, উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটি সর্বজনীন মানবপ্রেম ও ব্রাত্য মানুষের সাথে একাত্ম হওয়ার যে বার্তা দেয়, তা 'ঐকতান' কবিতার মূলসুরকেই যথাযথভাবে ধ্বনিত করে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও