ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৬
ইসলাম প্রশ্ন
‘ক’ সারারাত বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা দেখে ফজরের নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে যায়। তখন তার মা বলল, “বাবা! নামাজ পড়নি?” তখন ‘ক’ বলল, “আমার কাছে এখন ঘুমটাই আসল, নামাজ পড়া মানে অযথা সময় নষ্ট।” অপরদিকে ড. ইউসুফ কারযাভী একজন ইসলাম প্রচারক। তিনি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নও মুসলিমদের ইসলামের মৌলিক বিষয় শিক্ষা দিলেন। তখন তাদের মধ্যে একজন বললেন, “আমাদের দেশে কী আবার আল্লাহর পক্ষ থেকে পথ প্রদর্শক আসবে? তখন ইসলাম প্রচারক বললেন, ‘না’।
- ক)(1)
ফরজে আইন কী?
- খ)(2)
“সাওম আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।”—ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
‘ক’ এর মধ্যে আকাইদের কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ইসলাম প্রচারক ড. ইউসুফ কারযাভী-এর ‘না’ বলার যৌক্তিকতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে ইবাদত বা কাজ প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ব্যক্তিগতভাবে পালন করা ফরজ, তাকে ফরজে আইন বলে। যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।
- খ)
এটি একটি হাদিসে কুদসি। অন্য ইবাদত মানুষ দেখতে পায়, কিন্তু সাওম রোযাদার ও আল্লাহর মধ্যকার গোপন বিষয়। এতে লোকদেখানোর সুযোগ নেই এবং এটি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পালিত হয়। তাই আল্লাহ বলেছেন, সাওম আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। এতে সাওমের বিশেষ মর্যাদা ও বিপুল প্রতিদানের ইঙ্গিত রয়েছে।
- গ)
'ক' এর মধ্যে ইসলামের ফরজ বিধান নামাজকে তুচ্ছ জ্ঞান করা ও অবজ্ঞা করার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, যা আকাইদের দৃষ্টিতে কুফরির পর্যায়ের।
ব্যাখ্যা: নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম এবং ফরজে আইন। ক্রিকেট দেখে ফজর কাজা করা গুনাহ। কিন্তু 'নামাজ পড়া মানে অযথা সময় নষ্ট' বলা ইসলামের একটি মৌলিক বিধানকে অবজ্ঞা করা। আকাইদে দ্বীনের অকাট্য বিধানকে অস্বীকার বা তুচ্ছ করলে ইমান নষ্ট হয়। তাই ক-কে তওবা করে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে হবে।
- ঘ)
ড. ইউসুফ কারযাভীর 'না' বলা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। এটি ইসলামের খতমে নবুয়ত (নবুয়তের সমাপ্তি) বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
১. কুরআনের ঘোষণা: আল্লাহ বলেছেন, মুহাম্মদ (স) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল ও খাতামুন নাবিয়্যিন (সূরা আহযাব: ৪০)।
২. দ্বীন পূর্ণ: আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন (সূরা মায়িদা: ৩)। তাই নতুন কোনো পথপ্রদর্শক বা নবির প্রয়োজন নেই।
৩. সর্বজনীন আদর্শ: মহানবি (স) এর আদর্শ ও কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের পথপ্রদর্শক।সুতরাং, মুহাম্মদ (স) এর পর কোনো নবি আসবেন না। তাই ইসলাম প্রচারকের 'না' বলা সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও