অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

দীর্ঘদিন পর জাবেদ বিদেশ থেকে এসে দেখলেন তার বন্ধু রুবেল ডিগ্রী পাস করে ৭ লক্ষ টাকা মূলধন খাটিয়ে একটি কারখানায় স্থাপন করেছেন। সেখানে ১২ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছে এবং সে এখন সাবলম্বী। জাবেদ তার অর্জিত মূলধন দ্বারা গাজীপুর একটি কারখানা স্থাপন করেন যার অধিকাংশ শ্রমিক নারী। তার অর্জিত আয়ের বেশিরভাগ আসে রপ্তানির মাধ্যমে।

  1. ক)

    মাইক্রো শিল্প কি?

    (1)
  2. খ)

    বিদ্যুৎ শক্তির প্রসার শিল্পায়ন কে প্রভাবিত করে - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    রুবেলের ফার্মটি যে শিল্পের অন্তর্গত তার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জাবেদ সাহেবের শিল্পটি অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করেছে - বাংলাদেশ প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, উৎপাদনশীল খাতে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লাখ টাকা থেকে ৭৫ লাখ টাকা কিংবা যে প্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করে, তাকে মাইক্রো শিল্প বলে (বা সেবা খাতে স্থায়ী সম্পদ ১০ লাখ টাকার নিচে এবং সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিদ্যুৎ শক্তি হলো আধুনিক শিল্পায়নের মূল চালিকাশক্তি। আধুনিক শিল্প-কারখানার যন্ত্রপাতি চালনা, কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা বা লোডশেডিং উৎপাদন হ্রাস করে ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করে। পক্ষান্তরে, বিদ্যুৎ শক্তির সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যতা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করে শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রুবেলের ফার্মটিতে ৭ লক্ষ টাকা মূলধন ও ১২ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ অনুযায়ী, এটি কুটির শিল্পের (বা সেবা/ক্ষুদ্র পরিসরের মাইক্রো/কুটির শিল্পের) আওতাভুক্ত। উৎপাদন খাতে জমি ও ভবন ব্যতিরেকে ১০ লাখ টাকার নিচে মূলধন এবং পারিবারিক সদস্যসহ সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক থাকলে তা কুটির শিল্প হিসেবে গণ্য হয়।

    রুবেলের এই শিল্পের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
    ১. স্বল্প মূলধন: এ জাতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠায় খুব অল্প পরিমাণ পুঁজি বা মূলধনের প্রয়োজন হয়। রুবেল মাত্র ৭ লক্ষ টাকা খাটিয়ে এটি স্থাপন করেছেন।
    ২. সীমিত শ্রমিক ও শ্রমঘন উৎপাদন: এই শিল্পে শ্রমিকের সংখ্যা খুবই সীমিত থাকে (১৫ জনের মধ্যে) এবং এটি মূলত শ্রমঘন প্রযুক্তিনির্ভর।
    ৩. স্থানীয় কাঁচামাল ও সহজ প্রযুক্তি: সাধারণত স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত কাঁচামাল এবং সহজ ও প্রচলিত প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন পরিচালিত হয়, যা গ্রামীণ বা স্থানীয় পর্যায়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জাবেদ সাহেবের শিল্পটি হলো তৈরি পোশাক শিল্প (গার্মেন্টস শিল্প)। কারণ কারখানাটি গাজীপুরে অবস্থিত, শ্রমিকদের অধিকাংশই নারী এবং আয়ের সিংহভাগ আসে রপ্তানি থেকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এ শিল্প অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে।

    প্রথমত, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধানতম উৎস, যা মোট জাতীয় রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি জোগান দেয়। এর ফলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়।
    দ্বিতীয়ত, এ শিল্পটি দেশের বিপুল সংখ্যক বেকার জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের প্রধান ক্ষেত্র। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে এটি যুগান্তকারী অবদান রাখছে।
    তৃতীয়ত, পোশাক শিল্পের প্রসারের সাথে সাথে ব্যাংকিং, বীমা, পরিবহন, প্যাকেজিং ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন পশ্চাৎপদ ও অগ্রবর্তী সংযোগ শিল্পের (backward and forward linkage) ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে।

    অতএব, রপ্তানি বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে জাবেদ সাহেবের প্রতিষ্ঠিত শিল্পটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন