হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

রঞ্জন বাবু একজন ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি। তিনি একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের মাধ্যয়ে তিনি সবাইকে চরিত্রবান ও স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের জন্য মঙ্গলজনক কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেন। অন্যদিকে বলাই বাবুও একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তার সংগঠনের সদস্যরা ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে জীবন পরিচালনা করেন। তারা আদর্শ সংসারী হওয়ার চেষ্টা করেন।

  1. ক)

    ভক্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ব্রহ্মকে ঈশ্বর বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    বলাই বাবু কোন মহাপুরুষের আদর্শ অনুসরণ করেন? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    যে মহাপুরুষের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের সাথে রঞ্জন বাবুর সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তার মুখ্য উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ঈশ্বরের প্রতি ঐকান্তিক প্রেম বা ভালোবাসাকে ভক্তি বলে।

  2. খ)

    বেদান্ত দর্শন অনুসারে প্রাণী ও অপ্রাণী যে-স্থান থেকে জন্মলাভ করে এবং ধ্বংসের পর যার কাছে ফিরে যায়, তিনিই ব্রহ্ম। ঈশ্বরও জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা।

    ব্রহ্ম ও ঈশ্বর উভয়ই সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের মূল শক্তি। তাই নিরাকার ব্রহ্মকে ঈশ্বর বলা হয়।

  3. গ)

    বলাই বাবু ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শ অনুসরণ করেন।

    ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র: তিনি ১৮৮৮ সালে পাবনা জেলার হিমায়িতপুর গ্রামে আবির্ভূত হন। তিনি ‘সৎসঙ্গ’ নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সৎসঙ্গের আদর্শ হলো, ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র। ভালোবাসাই মহামূল্য, যা দিয়ে শান্তি কেনা যায়। এ সংঘের পাঁচটি মূলনীতি হলো যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ এর মূল স্তম্ভ। সৎসঙ্গ আদর্শ মানুষ, আদর্শ গৃহী ও আদর্শ ধর্মযাজক চায়।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: বলাই বাবুর সংগঠনের সদস্যরা ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে জীবন পরিচালনা করেন এবং আদর্শ সংসারী হওয়ার চেষ্টা করেন। এটি সৎসঙ্গের আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ মেলে।

  4. ঘ)

    রঞ্জন বাবুর সংগঠনের সঙ্গে স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংস প্রতিষ্ঠিত অযাচক আশ্রমের সাদৃশ্য রয়েছে। এর মুখ্য উদ্দেশ্য হলো স্বাবলম্বী হয়ে সমাজের কল্যাণের জন্য কাজ করা।

    স্বামী স্বরূপানন্দ ও অযাচক আশ্রম: স্বামী স্বরূপানন্দ ১৮৯৩ সালে চাঁদপুর শহরে আবির্ভূত হন। তিনি ‘অযাচক আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূলনীতি হলো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ যাচ্ঞা না করা। ১৯১৪ সালের ১লা জানুয়ারি তাঁর আদর্শে চরিত্র গঠন আন্দোলন শুরু হয়। এর মূল আবেদন, ‘আমি ভালো মানুষ হব এবং অপরকে ভালো হতে সহায়তা দিব’।

    ১. স্বাবলম্বন: এ সংগঠনের সদস্যরা কারও কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমে স্বাবলম্বী হন। রঞ্জন বাবুও সবাইকে স্বাবলম্বী হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

    ২. চরিত্র গঠন: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমবেত উপাসনার মাধ্যমে সদস্যদের চরিত্র গঠনে জোর দেওয়া হয়। উদ্দীপকে রঞ্জন বাবু সবাইকে চরিত্রবান হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

    ৩. সমাজকল্যাণ: এ সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য সমাজের কল্যাণে কাজ করা, সমাজ সংস্কার করা এবং জগতের কল্যাণে নিযুক্ত থাকা। রঞ্জন বাবুও সবাইকে সমাজের জন্য মঙ্গলজনক কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেন।

    ৪. ব্রহ্মচর্য ও ভালোবাসা: ব্রহ্মচর্য পালন এবং সকলকে সমানভাবে ভালোবাসার শিক্ষা এ আশ্রমের আদর্শ। ‘সকলের তরে সকলে আমরা’ তাঁর জীবনভাবনা।

    সুতরাং, স্বাবলম্বী ও চরিত্রবান মানুষ গড়ে সমাজের কল্যাণ সাধনই অযাচক আশ্রমের মুখ্য উদ্দেশ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন