উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
২০১৮ সালের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় জাপানের 'সাইকো ইলেকট্রনিকস' কোম্পানি বাংলাদেশি ক্রেতাদের পণ্য কেনায় উদ্বুদ্ধ করে বিক্রির কাজ সম্পন্ন করার জন্য এ দেশীয় কিছু বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেয়। নিয়োগের পর তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। ফলে বিক্রি বাড়ায় আশানুরূপ সাফল্য অর্জিত হয়। মেলা শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বলেন যে, বিক্রয়কর্মীদের সংখ্যা বেশি হলেও বর্তমানে সৎ ও বিশ্বস্ত বিক্রয়কর্মীর ব্যাপক অভাব আছে।
- ক)(1)
ব্যক্তিক বিক্রয় কী?
- খ)(2)
"বিক্রয়িকতা শিক্ষালব্ধ" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিক্রয়কর্মীদের যে ধরনের গুণাবলি কারণে বিক্রি আশানুরূপ হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপকের বক্তব্যের যৌক্টিকতা বিক্রয়কর্মীর গুণাবলির ধরন উল্লেখপূর্বক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে মৌখিক উপস্থাপনা ও আলোচনার মাধ্যমে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপন করাকে ব্যক্তিক বিক্রয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিক্রয়িকতা কেবল জন্মগত কোনো গুণ নয়, বরং উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে এই দক্ষতা অর্জন করা যায় বলেই বলা হয় "বিক্রয়িকতা শিক্ষালব্ধ"।
অতীতে মনে করা হতো বিক্রয়কর্মীরা জন্মসূত্রেই সফলতার গুণ নিয়ে আসে। কিন্তু আধুনিক বিপণন ব্যবস্থায় ক্রেতার আচরণ বিশ্লেষণ, পণ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন, কার্যকর যোগাযোগ ও উপস্থাপনা কৌশল প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই শেখানো হয়। সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন সাধারণ ব্যক্তিও দক্ষ ও সফল বিক্রয়কর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিক্রয়কর্মীদের অর্জিত 'পেশাগত ও মানসিক গুণাবলি'র কারণে বিক্রি আশানুরূপ হয়েছে।
একজন বিক্রয়কর্মীর সফলতার পেছনে তার পেশাগত গুণাবলি (যেমন: পণ্য সম্পর্কিত জ্ঞান, বিক্রয়কৌশল, ক্রেতাকে প্রভাবিত করার দক্ষতা) এবং মানসিক গুণাবলি (যেমন: আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য, উপস্থিত বুদ্ধি ও যোগাযোগ দক্ষতা) মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এ গুণগুলো উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শাণিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জাপানের 'সাইকো ইলেকট্রনিকস' কোম্পানি বাংলাদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এদেশীয় বিক্রয়কর্মী নিয়োগ করে এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। প্রশিক্ষণের ফলে তাদের মধ্যে পণ্য পরিচিতি, ক্রেতাদের প্ররোচিত করার সক্ষমতা ও পেশাগত বিক্রয়দক্ষতার সঠিক বিকাশ ঘটে। ফলে ক্রেতাদের সাথে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে তারা পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী করতে সমর্থ হয় এবং মেলায় আশানুরূপ বিক্রি অর্জিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপকের বক্তব্যটি বিক্রয়কর্মীর 'নৈতিক গুণাবলি'র (Moral Qualities) গুরুত্বের আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
বিক্রয়কর্মীর বিভিন্ন গুণাবলির মধ্যে সততা, বিশ্বস্ততা, ন্যায়পরায়ণতা, সময়নিষ্ঠতা ও নির্ভরযোগ্যতা হলো প্রধান নৈতিক গুণাবলি। একজন বিক্রয়কর্মীর শারীরিক, মানসিক বা পেশাগত যত দক্ষতাই থাকুক না কেন, তার মধ্যে যদি সততা ও নিষ্ঠার মতো মৌলিক নৈতিক গুণাবলি না থাকে, তবে সে প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণকর হতে পারে না। ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানের সাথে বিশ্বস্ত সম্পর্ক গড়তে নৈতিক গুণাবলির কোনো বিকল্প নেই।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিক্রয়কর্মীদের চমৎকার যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতার কারণে মেলায় পণ্য বিক্রি আশানুরূপ বৃদ্ধি পায়। তবে সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপক আক্ষেপ করে বলেন যে, বিক্রয়কর্মীর সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও বর্তমানে সৎ ও বিশ্বস্ত বিক্রয়কর্মীর ব্যাপক অভাব রয়েছে। অর্থাৎ বাহ্যিক উপস্থাপনা বা উপস্থিত কৌশল প্রদর্শনে অনেকে দক্ষ হলেও প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বস্ততা, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা কিংবা ক্রেতার সাথে প্রতারণাহীন সম্পর্ক বজায় রাখার মতো নৈতিক গুণের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘস্থায়ী সুনাম ও আস্থার ভিত্তি মূলত এই নৈতিক গুণাবলির ওপরই নির্ভর করে।
অতএব, ব্যবস্থাপক বিক্রয়কর্মীর পেশাগত দক্ষতার বাইরে তাদের নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলির প্রাসঙ্গিকতা এবং বর্তমান ঘাটতি তুলে ধরে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক মতামত ব্যক্ত করেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও