ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
ইসলাম প্রশ্ন
জনাব আলী একজন মসজিদের ইমাম। তিনি বিগত শুক্রবারে জুমআর খুতবায় আখিরাতের দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রথম বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলেন- মানুষ তার অপরাধের জন্য শাস্তি ভোগ করবে। ক্ষুধা ও পিপাসায় কাতর হলে রক্ত, পুঁজ ও কাটাযুক্ত বৃক্ষ খাবার হিসেবে দেয়া হবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলেন- মানুষ তার ভালো কর্মের জন্য সুশীতল ছায়াতলে অবস্থান করবে। মনে যা চাইবে তাই সে সেখানে ভোগ করবে।
- ক)(1)
রিসালাত কাকে বলে
- খ)(2)
আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব আলী সাহেবের বক্তব্যের ১ম বিষয়টিতে যে সম্পর্কে ইঙ্গিত রয়েছে তা 'ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জনাব আলী সাহেবের বর্ণিত দ্বিতীয় বিষয়টি চিহ্নিতপূর্বক তা লাভ করার জন্য মানবমণ্ডলীর কী করা উচিত? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আল্লাহর বিধান ও বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যুগে যুগে নবি-রাসুল প্রেরণের ব্যবস্থাকে এবং এতে বিশ্বাস স্থাপনকে রিসালাত (Prophethood) বলে।
- খ)
আখিরাতে বিশ্বাস ইমানের একটি মৌলিক বিষয়, এটি ছাড়া ইমান পূর্ণ হয় না। আখিরাতে বিশ্বাস থাকলে মানুষ বুঝতে পারে যে প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে এবং ভালো কাজের পুরস্কার ও মন্দ কাজের শাস্তি রয়েছে। ফলে সে অন্যায় থেকে বিরত থাকে ও সৎকর্মে উৎসাহী হয়। এই বিশ্বাস মানুষকে নৈতিক ও দায়িত্বশীল করে এবং সমাজে শান্তি আনে। তাই আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।
- গ)
জনাব আলীর বক্তব্যের ১ম বিষয়টিতে জাহান্নাম (Hell) সম্পর্কে ইঙ্গিত রয়েছে।
জাহান্নাম হলো আখিরাতে অপরাধী ও কাফিরদের জন্য নির্ধারিত শাস্তির স্থান। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মানুষ তার অপরাধের জন্য শাস্তি ভোগ করবে এবং ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর হলে রক্ত, পুঁজ ও কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ খাবার হিসেবে দেওয়া হবে। কুরআনে জাহান্নামবাসীদের খাদ্য হিসেবে কাঁটাযুক্ত যাক্কুম ও যারী বৃক্ষ এবং গিসলীন (পুঁজ) -এর কথা উল্লেখ আছে। এটি জাহান্নামের কঠিন শাস্তিরই বর্ণনা। সুতরাং, জনাব আলী তাঁর ১ম বিষয়ে জাহান্নামের কথাই বলেছেন।
- ঘ)
জনাব আলীর বর্ণিত দ্বিতীয় বিষয়টি হলো জান্নাত (Paradise)। উদ্দীপকে সুশীতল ছায়াতলে অবস্থান এবং মনে যা চাইবে তা-ই ভোগ করার কথা বলা হয়েছে, যা জান্নাতের নিয়ামতের বর্ণনা।
জান্নাত লাভ করার জন্য মানবমণ্ডলীর করণীয়:
১. সঠিক ইমান আনা: আল্লাহ, রাসুল, আখিরাতসহ ইমানের সব মৌলিক বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা।
২. সৎকর্ম করা: নামাজ, রোজা, যাকাত, হজসহ আল্লাহর নির্দেশিত সব ইবাদত পালন এবং মানুষের উপকারে কাজ করা।
৩. পাপ থেকে বিরত থাকা ও তওবা করা: শিরক, মিথ্যা, জুলুমসহ সব পাপ ত্যাগ করা এবং ভুল হলে আন্তরিকভাবে তওবা করা।
৪. তাকওয়া অর্জন: সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে জীবন পরিচালনা করা।সুতরাং, ইমান ও সৎকর্মের মাধ্যমেই মানুষ জান্নাত লাভ করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও