হিন্দু ধর্ম • হিন্দুধর্মে সংস্কার • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
কয়েক বছর আগে মাধবী ও জয়ন্তদের বাড়ি সাজ-সজ্জা করা হয়। তাদেরকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। এ উপলক্ষ্যে অনেক অতিথির আগমন ঘটে। সকলে আনন্দে মেতে ওঠে। এপর, শুভলগ্নে সকলের উপস্থিতিতে মাধবী ও জয়ন্ত পরস্পর তিনবার মালা বদল করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা নবজীবনে প্রবেশ করে। বর্তমানে তাদের ঘরে দুইটি সন্তান রয়েছে। মা-বাবা ও সন্তানদেরকে নিয়ে বর্তমানে তারা সুখে দিন যাপন করছে।
- ক)(1)
মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম অন্নভোজনকে কী বলে?
- খ)(2)
কোন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মাধবী ও জয়ন্তের বিবাহ কোন প্রকার বিবাহের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম অন্নভোজনকে অন্নপ্রাশন বলে।
- খ)
গায়ে হলুদ (গাত্র হরিদ্রা) অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হিন্দু বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বর ও কনের নিজ নিজ বাড়িতে এ অনুষ্ঠান হয়। বর বা কনেকে আসনে বসিয়ে বড়রা ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করেন, আর ছোটরা গালে, কপালে ও হাতে হলুদ মাখিয়ে দেয়। এটি মূলত দেহশুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান; হলুদ, মেথি, সরিষা, চন্দন সৌভাগ্যের প্রতীক। এর উদ্দেশ্য নবদম্পতির সুখ-শান্তি কামনা।
- গ)
মাধবী ও জয়ন্তের বিবাহ ব্রাহ্মবিবাহের অন্তর্গত।
মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের উল্লেখ আছে: ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রাজাপত্য, আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ। এর মধ্যে ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য ও প্রাজাপত্য উল্লেখযোগ্য। কন্যাকে বস্ত্র ও অলংকারে সাজিয়ে বিদ্বান ও সদাচারী বরকে আমন্ত্রণ করে কন্যা সম্প্রদান করাকে ব্রাহ্মবিবাহ বলে। বর্তমান হিন্দুসমাজে এই বিবাহই প্রচলিত।
উদ্দীপকে মাধবী ও জয়ন্তদের বাড়ি সাজানো হয়েছে, অনেক অতিথির আগমন ঘটেছে এবং শুভলগ্নে সকলের উপস্থিতিতে তারা পরস্পর তিনবার মালা বদল করেছে। অর্থাৎ পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে মাঙ্গলিক আয়োজনের মাধ্যমে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি পরিবারের আয়োজিত প্রচলিত বিবাহের রীতি। গান্ধর্ব বিবাহের মতো কেবল নর-নারীর পারস্পরিক শপথে মাল্যবিনিময় নয়।
সুতরাং তাদের বিবাহ ব্রাহ্মবিবাহের অন্তর্গত।
- ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানটি বিবাহ। হিন্দুধর্মে দশবিধ সংস্কারের মধ্যে বিবাহ শ্রেষ্ঠ, তাই এর গুরুত্ব ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে অত্যন্ত বেশি।
যৌবনে বেদমন্ত্র উচ্চারণ, পিতৃপূজা ও হোমের মাধ্যমে বর ও বধূর মিলনরূপ সংস্কারকে বিবাহ বলে। উদ্দীপকের মাধবী ও জয়ন্ত মালাবদলের মাধ্যমে নবজীবনে প্রবেশ করেছে এবং এখন সন্তান নিয়ে সুখে আছে। এর গুরুত্ব নিম্নরূপ।
১. ধর্মীয় গুরুত্ব: হিন্দুসমাজে বিবাহ ধর্মীয় জীবনের চর্চা। স্ত্রী পুরুষের সহধর্মিণী। স্ত্রীকে বাদ দিয়ে পুরুষের কোনো ধর্মকার্য সম্পন্ন হয় না।
২. দায়িত্ববোধ সৃষ্টি: 'বিবাহ' শব্দের অর্থ বিশেষরূপে ভারবহন করা। বিবাহের ফলে পুরুষকে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও মানসম্ভ্রম রক্ষার দায়িত্ব নিতে হয়।
৩. পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব লাভ: স্বামী সন্তানের জনক হয়ে পিতৃত্ব এবং স্ত্রী জননী হয়ে মাতৃত্ব লাভ করেন। উদ্দীপকের দুই সন্তানের মা-বাবা হওয়া এর দৃষ্টান্ত।
৪. সুকুমার বৃত্তির বিকাশ: বিবাহের মাধ্যমে মাতা, পিতা, পুত্র, কন্যা সকলকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে ওঠে, যাকে কেন্দ্র করে প্রেমপ্রীতি, স্নেহ, বাৎসল্য প্রভৃতি মনের সুকুমার বৃত্তিগুলো পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হয়। এভাবে গড়ে ওঠে আলোকিত মানুষ তৈরির সূতিকাগার।
৫. একাত্মতা: 'যদেতৎ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম' মন্ত্রের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী আমৃত্যু সুখ-দুঃখে একসঙ্গে থাকার প্রতিজ্ঞা করেন।
সুতরাং বিবাহ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনের জন্য অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও