পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
করিম সাহেবের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর মেয়েরা পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ চাইলে, ছেলেরা নানা অজুহাত পেশ করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমতাবস্থায় বোনেরা ঝগড়া-বিবাদ না করে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করে। তারা সকলে আদালতের রায় অনুযায়ী যার যার সম্পত্তির দখল বুঝে পায়।
- ক)(1)
আইনগত কর্তব্য কী?
- খ)(2)
অধিকার ভোগ করতে হলে, কর্তব্য পালন করতে হয়'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের করিম সাহেবের মেয়েরা কোন ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
করিম সাহেবের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সুনাগরিকের কোন গুণাবলি ফুটে উঠেছে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আইনগত কর্তব্য হলো রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা নির্ধারিত সেই কর্তব্য, যা পালন করা নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক এবং লঙ্ঘন করলে শাস্তি পেতে হয়।
- খ)
রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে, আর নাগরিকও রাষ্ট্র ও অন্য নাগরিকের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালন করে। এই দুইয়ের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। একজন যদি অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে, তবে সবার অধিকার ভোগ বিঘ্নিত হয়। যেমন, আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাইলে অন্যের জীবনের নিরাপত্তায় আঘাত না করা আমার কর্তব্য। তাই কর্তব্য পালন ছাড়া অধিকার ভোগ করা সম্ভব নয়।
- গ)
করিম সাহেবের মেয়েরা সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা নাগরিকের সামাজিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা: সম্পত্তির অধিকার বলতে আইনসম্মত উপায়ে সম্পত্তি অর্জন, ভোগ, হস্তান্তর ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্তির অধিকারকে বোঝায়। উদ্দীপকে বাবার মৃত্যুর পর ছেলেরা নানা অজুহাত দেখিয়ে ও ভয় দেখিয়ে মেয়েদের পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য ভাগ দিতে অস্বীকার করেছে। অথচ আইন অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ে উভয়েই উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তির অংশ পাওয়ার অধিকারী। এভাবে মেয়েরা তাদের আইনসিদ্ধ অধিকার থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তারা তা ফিরে পেয়েছে।
- ঘ)
করিম সাহেবের ছেলে-মেয়েদের আচরণে সুনাগরিকের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও বিবেক বা ন্যায়বোধ-এর গুণ ফুটে উঠেছে।
১. আইনের প্রতি শ্রদ্ধা: মেয়েরা ঝগড়া-বিবাদ বা জোর-জবরদস্তির পথে না গিয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া সুনাগরিকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
২. সহনশীলতা ও আইন মেনে নেওয়ার মনোভাব: ভাইদের ভয়ভীতি সত্ত্বেও বোনেরা ধৈর্য হারায়নি। আবার আদালতের রায়ের পর ছেলেরাও তা মেনে নিয়েছে এবং সবাই রায় অনুযায়ী সম্পত্তির দখল বুঝে পেয়েছে।
৩. ন্যায়বোধ ও অধিকার-কর্তব্য সচেতনতা: মেয়েরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সচেতন ছিল এবং তা শান্তিপূর্ণ ও বৈধ উপায়ে আদায় করেছে।সুতরাং, সম্পত্তির বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনের পথ অনুসরণ ও রায় মেনে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সুনাগরিকের গুণাবলি প্রকাশ পেয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও