ভূগোল এবং পরিবেশ • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

ঋতু | বৈশিষ্ট্য
A | তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি হয়
B | দক্ষিণ-পশ্চিম অয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়
C | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করে

  1. ক)

    বাংলাদেশের কোন কোন এলাকা নিয়ে স্রোতজ সমভূমি গঠিত?

    (1)
  2. খ)

    নদীর মোহনায় চর জেগে উঠে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'B' চিহ্নিত ঋতুটি উল্লেখপূর্বক এর বায়ুপ্রবাহের গতি, প্রকৃতির বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'A' ও 'C' ঋতু দুটির কোনটিতে অধিক বৃষ্টিপাত হয়? তোমার উত্তরের সপক্ষে পাঠ্যবইয়ের আলোকে যুক্তি-দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা, যেমন খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও নোয়াখালী অঞ্চলের জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত নিম্নভূমি নিয়ে স্রোতজ সমভূমি গঠিত।

  2. খ)

    নদী মোহনায় এসে সাগরের পানির সাথে মিলিত হয়। এখানে নদীর গতিবেগ কমে যায়, আর জোয়ারের পানিও নদীর স্রোতে বাধা দেয়। ফলে নদী তার বয়ে আনা পলি, বালি ও কাদা আর বহন করতে পারে না এবং মোহনায় জমা করে। কালক্রমে এ সঞ্চিত পলি জমে চর জেগে ওঠে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত ঋতুটি হলো বর্ষাকাল, যেখানে দক্ষিণ-পশ্চিম অয়ন বা মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।

    বর্ষাকাল: বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল। জুনের শেষ দিকে মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে সাথে এ ঋতু শুরু হয়। এ সময় সূর্য প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়, তবু অধিক বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা তেমন বাড়ে না।

    বায়ুপ্রবাহের গতি ও প্রকৃতি:
    ১. সৃষ্টির প্রেক্ষাপট: জুনের শেষে সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর অবস্থান করায় উত্তর ভারতে প্রবল তাপ ও শক্তিশালী নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়। এ সময় দক্ষিণ গোলার্ধের মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা পার হয়ে এ নিম্নচাপের দিকে ছুটে আসে।
    ২. গতি: নিরক্ষরেখা পার হওয়ার পর পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাবে বায়ু ডান দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাই একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে।
    ৩. প্রকৃতি: ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসার সময় বায়ু প্রচুর জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে। তাই এ বায়ু আর্দ্র, উষ্ণ ও বৃষ্টিবহনকারী।
    ৪. ফল: এ বায়ু শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ।

    সুতরাং, 'B' চিহ্নিত বর্ষা ঋতুতে প্রবাহিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আর্দ্র ও বৃষ্টিবহনকারী প্রকৃতির।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'A' হলো গ্রীষ্মকাল (তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি হয়) এবং 'C' হলো শীতকাল (সর্বনিম্ন তাপমাত্রা)। এ দুই ঋতুর মধ্যে 'A' অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে অধিক বৃষ্টিপাত হয়।

    ঋতু দুটির পরিচয়: মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল, যা দেশের উষ্ণতম ঋতু। আর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকাল, যখন জানুয়ারি সবচেয়ে শীতল মাস।

    ১. গ্রীষ্মে নিম্নচাপ ও জলীয়বাষ্প: গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তির দিকে সরে আসায় তাপমাত্রা বাড়ে এবং স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে সামুদ্রিক জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের দিকে আসে, যা বৃষ্টির উপাদান জোগায়।
    ২. কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টি: উত্তপ্ত বায়ু উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে দ্রুত মেঘ তৈরি করে। এর ফলে এপ্রিল-মে মাসে ঈশান কোণে মেঘ জমে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি হয়। এটি উদ্দীপকের 'A' এর বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে।
    ৩. শীতে শুষ্ক বায়ু: শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং স্থলভাগের উপর দিয়ে শুষ্ক ও শীতল উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। এতে জলীয়বাষ্প থাকে না বলে বৃষ্টি হয় না বললেই চলে।
    ৪. আবহাওয়ার চিত্র: শীতকালে আকাশ মোটামুটি পরিষ্কার ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকে। অন্যদিকে গ্রীষ্মে প্রায়ই ঝড়ো হাওয়া, মেঘ ও বৃষ্টি দেখা যায়।

    সুতরাং, পাঠ্যবইয়ের আলোকে বলা যায়, শীতকাল ('C') অপেক্ষা গ্রীষ্মকালে ('A') অধিক বৃষ্টিপাত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন