রসায়ন ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
ভিনেগার একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌগ। এর ব্যবহার বহুমাত্রিক।
- ক)(1)
কোয়াগুলেশন কী?
- খ)(2)
NaCl \mathrm{NaCl} তীব্র তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
গাঁজন প্রক্রিয়ায় তুমি কীভাবে যৌগটি উৎপন্ন করবে?
- ঘ)(4)
যৌগটির খাদ্য সংরক্ষণ কৌশল ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রক্রিয়ায় কোনো কলয়েড দ্রবণে উপযুক্ত তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ যোগ করে কলয়েড কণাগুলোর চার্জ প্রশমিত করার মাধ্যমে সেগুলোকে একত্রিত করে অধঃক্ষিপ্ত করা হয়, তাকে কোয়াগুলেশন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তীব্র তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ হলো তারা যা জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ বা প্রায় ১০০% আয়নিত অবস্থায় থাকে। NaCl একটি আয়নিক যৌগ, যা জলীয় দ্রবণে Na^+ এবং Cl^- আয়নে সম্পূর্ণ বিশ্লিষ্ট হয় (NaCl(s) + aq → Na^+(aq) + Cl^-(aq))। ফলে দ্রবণে বিপুল পরিমাণ মুক্ত আয়ন বিদ্যুৎ পরিবহন করে। তাই NaCl একটি তীব্র তড়িৎবিশ্লেষ্য পদার্থ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত যৌগটি হলো ভিনেগার (এসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণ)। গাঁজন প্রক্রিয়ায় এটি নিম্নোক্ত ধাপে প্রস্তুত করা হয়:
১. ইথানল প্রস্তুতি: স্টার্চজাতীয় পদার্থ বা চিটাগুড় (মোলাসেস) এর জলীয় দ্রবণে ইস্ট যোগ করলে ইস্ট থেকে নিঃসৃত 'ইনভার্টেজ' ও 'জাইমেজ' এনজাইমের প্রভাবে চিনি ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় ইথানলে রূপান্তরিত হয়:
C12H22O11 + H2O --(ইনভার্টেজ)--> C6H12O6 + C6H12O6
C6H12O6 --(জাইমেজ)--> 2CH3CH2OH + 2CO2২. এসিটিক এসিডে রূপান্তর: প্রাপ্ত প্রায় ১০% ইথানল দ্রবণে খাদ্য হিসেবে অ্যামোনিয়াম সালফেট বা ফসফেট যোগ করে 'মাইকোডার্মা এসিটি' (Mycoderma aceti) নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে ২৫°-৩৫°C তাপমাত্রায় পর্যাপ্ত বাতাসের (অক্সিজেন) চালনা করা হয়। ব্যাকটেরিয়া নিঃসৃত অ্যালকোহল ডিহাইড্রোজিনেজ এনজাইমের প্রভাবে ইথানল জারিত হয়ে এসিটিক এসিডে পরিণত হয়:
CH3CH2OH + O2 --(মাইকোডার্মা এসিটি)--> CH3COOH + H2Oএভাবে উৎপন্ন দ্রবণকে প্রয়োজনমতো লঘু করে ৬-১০% এসিটিক এসিড দ্রবণ বা ভিনেগার তৈরি করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভিনেগারের খাদ্য সংরক্ষণ কৌশল নিম্নরূপ:
১. অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি: ভিনেগারে বিদ্যমান এসিটিক এসিড (CH3COOH) খাদ্যবস্তুর জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে H^+ আয়ন মুক্ত করে (CH3COOH ⇌ CH3COO^- + H^+)। ফলে খাদ্যের pH কমে ৩.০ থেকে ৪.০ এর মধ্যে নেমে আসে।
২. অণুজীবের বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধ: খাদ্য নষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য ক্ষতিকর অণুজীবের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল pH হলো সাধারণত ৬.৫ থেকে ৭.৫। ভিনেগার ব্যবহারের ফলে খাদ্যের pH কমে অম্লীয় হয়ে যাওয়ায় এসব অণুজীবের প্রোটিন বিকৃত হয় এবং তাদের যাবতীয় এনজাইমের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ধ্বংস হয়। ফলে অণুজীব বাঁচতে পারে না।
৩. অণুজীবের প্লাজমোলাইসিস: অবিয়োজিত এসিটিক এসিড ব্যাকটেরিয়া কোষের ঝিল্লি ভেদ করে কোষাভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং কোষের অভ্যন্তরীণ pH কমিয়ে দেয়, ফলে কোষের স্বাভাবিক জৈবিক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
এভাবে ভিনেগার খাদ্যবস্তুকে পচন ও জীবাণুর আক্রমণ থেকে দীর্ঘদিন সুরক্ষিত রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও