‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অপারেশন সার্চলাইট কী?

    (1)
  2. খ)

    তমদ্দুন মজলিস কেন গঠন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে হক 'ক'-এ কোন নির্বাচনের ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ছক 'খ'-এর নির্বাচনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র ও নিরীহ বাঙালিদের ওপর পরিচালিত বর্বরোচিত ও নৃশংস সামরিক অভিযানই হলো 'অপারেশন সার্চলাইট' (Operation Searchlight)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং ভাষা আন্দোলনের সূচনা করার লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিস' গঠিত হয়েছিল।

    পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এ প্রেক্ষাপটে বাঙালি সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য রক্ষা এবং বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি ও গণসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি অরাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে তমদ্দুন মজলিস গঠন করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক 'ক'-এ ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল মিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ঐতিহাসিক '২১ দফা কর্মসূচি', যার প্রথম দফা ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা। এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং মোট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।

    উদ্দীপকের ছক 'ক'-এ '২১ দফা কর্মসূচি' এবং '২২৩ আসন লাভ'-এর কথা উল্লেখ রয়েছে। ঐতিহাসিক এ দুটি তথ্যের সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের হুবহু মিল রয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের ছক 'ক' দ্বারা ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনকে নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক 'খ'-এ 'এক ব্যক্তি এক ভোট' এবং '১৬৭ আসন লাভ' তথ্যের মাধ্যমে ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনকে নির্দেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিজয়: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি (১৬০টি সাধারণ ও ৭টি সংরক্ষিত নারী আসন) লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত ও ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত হয়।

    ২. ছয় দফার প্রতি গণরায়: আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মূল ভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি। এ বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণ ৬ দফা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বৈধতা প্রদান করে।

    ৩. পশ্চিম পাকিস্তানি আধিপত্যের পতন: এই নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং আওয়ামী লীগ সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মর্যাদা পায়।

    ৪. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি: নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় পেলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা ও ষড়যন্ত্র শুরু করে। ফলে বাঙালিরা চূড়ান্ত স্বাধীনতা ও মুক্তির লড়াইয়ের দিকে ধাবিত হয় এবং একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।

    সুতরাং, ছক 'খ'-এর ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের প্রত্যক্ষ ও প্রধান সোপান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন