অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

করিম মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। পাঁচজনের অভাবের সংসারে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সামান্য জমি ছাড়া তার কোনো সম্পদ নেই। তাই কৃষিকাজ করার সময় ধানের বীজ, কীটনাশক ও সার ক্রয়ের জন্য স্থানীয় মহাজন, ধনী ব্যবসায়ী ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে উচ্চহারে সুদে টাকা ধার নিতে হয়।

  1. ক)

    কৃষি কী?

    (1)
  2. খ)

    "বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে করিম মিয়ার ঋণগ্রহণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসসমূহ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো উদ্দীপকে উল্লিখিত উৎসসমূহ কৃষিঋণের জন্য পর্যাপ্ত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভূমি কর্ষণ করে খাদ্যশস্য, ফলমূল, শাকসবজি উৎপাদন এবং পশুপালন, হাঁস-মুরগি পালন ও মৎস্য চাষের মাধ্যমে মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রক্রিয়াকে কৃষি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরাসরি কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    তাপমাত্রা বাড়ার কারণে অনাবৃষ্টি ও খরার প্রাদুর্ভাব বাড়ে, ফলে ফসলি জমির আর্দ্রতা হ্রাস পেয়ে উৎপাদন কমে যায়। এছাড়া মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একই সাথে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব বেড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে করিম মিয়ার ঋণগ্রহণের উৎসগুলো হলো কৃষিঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক বা সনাতন উৎস।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, করিম মিয়া কৃষিকাজের ব্যয় মেটাতে স্থানীয় মহাজন, ধনী ব্যবসায়ী ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। এই উৎসগুলো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক বিধিবিধান মেনে চলে না।

    ১. গ্রাম্য মহাজন: এরা গ্রামের কৃষকদের বিপদের সময় সহজ শর্ত ছাড়া দ্রুত ঋণ দেয়, তবে অত্যন্ত চড়া সুদ আদায় করে। ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে কৃষকের জমি বা ফসল হাতিয়ে নেয়।
    ২. ধনী ব্যবসায়ী বা বেপারি: এরা নির্দিষ্ট ফসলের মৌসুমে কম দামে ফসল কিনে নেওয়ার শর্তে বা চড়া সুদে ঋণ দেয়।
    ৩. আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব: এই উৎস থেকে তুলনামূলক কম সুদে বা বিনা সুদে স্বল্প সময়ের জন্য ঋণ পাওয়া গেলেও এর পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত থাকে।

    এভাবে করিম মিয়া তার প্রয়োজনের তাগিদে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা না পেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক এই উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, উদ্দীপকে উল্লিখিত অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসসমূহ কৃষিঋণের জন্য মোটেও পর্যাপ্ত নয়; বরং তা কৃষকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।

    উদ্দীপকে করিম মিয়া যে উৎসগুলো (গ্রাম্য মহাজন, ধনী ব্যবসায়ী, আত্মীয়-স্বজন) থেকে ঋণ নিয়েছেন, তা মূলত অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস। এসব উৎসের প্রধান সীমাবদ্ধতাগুলো নিম্নরূপ:

    ১. ঋণের চড়া সুদ: মহাজন ও ধনী ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক উচ্চ হারে সুদ আদায় করে, যা পরিশোধ করতে গিয়ে কৃষকরা ঋণের ফাঁদে আটকে যায়।
    ২. অপ্রতুলতা ও অনিশ্চয়তা: ব্যক্তিগত উৎস থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাওয়া যায় না। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় বা বড় ধরনের কৃষি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এরা সরবরাহ করতে পারে না।
    ৩. শোষণমূলক শর্ত: ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নিলে অনেক সময় বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে উৎপাদিত ফসল তাদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়, যাকে 'দাদন প্রথা' বলে।

    আধুনিক কৃষির সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ও যান্ত্রিকীকরণের ব্যয় মেটাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পসুদের প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ (যেমন: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, সমবায় সমিতি ইত্যাদি)। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সহজলভ্যতা ছাড়া কৃষকের উৎপাদন ও জীবনমান টেকসই হতে পারে না। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলো কৃষিঋণের চাহিদা পূরণে কখনোই পর্যাপ্ত নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন