বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

'ক' অঞ্চলটি 'খ' দেশের একটি প্রদেশ ছিল। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে 'ক' অঞ্চলের সাধারণ মানুষেরা 'খ' দেশের শাসক দ্বারা শোষিত ছিল। এমতাবস্থায় 'ক' অঞ্চলের একজন বিখ্যাত নেতা এগিয়ে আসেন এবং ১৯৬৬ সালে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। উত্ত প্রস্তাবটি 'খ' অঞ্চলের 'আমাদের বাঁচার দাবি' নামে পরিচিত।

  1. ক)

    শেখ মুজিবুর রহমানকে কত তারিখে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'খ' অঞ্চলের নেতা যে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছেন সেটি ঐতিহাসিক কোন প্রস্তাবকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো'।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রস্তাবটিকে 'ক' অঞ্চলের "আমাদের বাঁচার দাবি" নামে আখ্যায়িত করা হয়। তুমি কি একমত?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) গণসংবর্ধনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

  2. খ)

    ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৬৯ সালের ১১ দফার ভিত্তিতে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বলে।

    ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক-কৃষক ও সর্বস্তরের মানুষ আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুসহ সব বন্দির মুক্তির দাবিতে রাজপথে নামে। আন্দোলনের চাপে মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।

  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চল পূর্ব বাংলা (পূর্ব পাকিস্তান) এবং 'খ' দেশ পাকিস্তান। ১৯৬৬ সালে 'ক' অঞ্চলের নেতার উপস্থাপিত প্রস্তাবটি ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করে।

    পাকিস্তানি শাসকদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে এই কর্মসূচি পেশ করেন। এতে ছিল:
    ১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ফেডারেল সংসদীয় সরকার
    ২. কেন্দ্রের হাতে শুধু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র
    ৩. দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক মুদ্রা বা পৃথক রিজার্ভ ব্যাংক
    ৪. কর ধার্যের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যের হাতে
    ৫. পৃথক বৈদেশিক বাণিজ্য ও মুদ্রা-হিসাব
    ৬. পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আলাদা আধা-সামরিক বাহিনী

    এই কর্মসূচিকেই বাঙালির 'বাঁচার দাবি' বা মুক্তির সনদ বলা হয়।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমি উক্তিটির সাথে একমত। ছয় দফা ছিল বাঙালির অধিকার আদায়ের মুক্তির সনদ।

    ১. অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসান: পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য ছিল। পূর্ব বাংলার রপ্তানি আয় পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হতো। পৃথক মুদ্রা, বৈদেশিক বাণিজ্য ও কর ধার্যের দাবি এই শোষণ বন্ধের পথ দেখায়।
    ২. স্বায়ত্তশাসন: কেন্দ্রের হাতে কেবল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র রেখে বাকি ক্ষমতা প্রদেশকে দেওয়ার দাবি বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করত।
    ৩. নিরাপত্তা ও গণজাগরণ: পৃথক আধা-সামরিক বাহিনীর দাবি ছিল ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে অরক্ষিত পূর্ব বাংলার নিরাপত্তার প্রশ্নে। ছয় দফার ভিত্তিতেই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় অর্জিত হয়।

    সুতরাং, ছয় দফা বাঙালির অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষার দাবি হওয়ায় একে 'আমাদের বাঁচার দাবি' বলা যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন