যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপক-১: সাহানা বলে, আমরিন সবসময় যৌক্তিক কথা বলে। সে জ্ঞানী ও ন্যায়বান। যখন সে ক্ষুধা অনুভব করে তখন খাবার খায়, যখন সে তৃষ্ণা অনুভব করে তখন পানি পান করে।উদ্দীপক-২: সাবিনা বলে, পহেলা বৈশাখ প্রথাগতভাবে পালিত হয়। মানুষ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে। মহিলারা লাল পাড়ে সাদা শাড়ি পরে এবং নিজেদেরকে সুন্দরভাবে রঙিন চুড়ি ও ফুল দিয়ে সাজায়। এ দিন মানুষ ঐতিহ্যবাহী খাবার খায়।

  1. ক)

    বিধেয়ক কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    “বৃহত্তম জাতি কখনই উপজাতি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না”— ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক-১ এ কোন বিধেয়কের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সাহানা ও সাবিনার বক্তব্যে প্রতিফলিত বিধেয়কের সম্পর্ক পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অ্যারিস্টটলের যুক্তিবিদ্যা অনুসারে বিধেয়ক চার প্রকার এবং পোরফিরির মতে বিধেয়ক পাঁচ প্রকার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শ্রেণি বা জাতির ঊর্ধ্বে আর কোনো উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি কল্পনা করা যায় না, তাকে পরতম জাতি বা বৃহত্তম জাতি বলে। পরতম জাতির ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এটি কখনই অন্য কোনো বৃহত্তর জাতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। ফলে এটি কোনো জাতির অধীনে উপজাতি হিসেবে অবস্থান করতে পারে না। এজন্য বৃহত্তম জাতি কখনই উপজাতি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক-১-এ বিধেয়কের অন্যতম প্রকার 'উপলক্ষণ' (Proprium)-এর ইঙ্গিত রয়েছে।

    যে গুণ কোনো পদের মূল জাত্যর্থ বা সারসত্তা নয়, কিন্তু মূল জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে।

    উদ্দীপকে আমরিনের যৌক্তিক চিন্তা, ক্ষুধা পেলে খাবার খাওয়া এবং তৃষ্ণা পেলে পানি পান করার কথা বলা হয়েছে। মানুষের মূল জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। এই মূল গুণগুলো থেকে স্বাভাবিকভাবেই জ্ঞানচর্চা, ন্যায়পরায়ণতা এবং জৈবিক তাড়নায় খাবার ও পানীয় গ্রহণের বৈশিষ্ট্যগুলো অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। সুতরাং, উদ্দীপক-১ এ ব্যক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের উপলক্ষণকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাহানা ও সাবিনার বক্তব্যে প্রতিফলিত বিধেয়ক দুটি যথাক্রমে 'উপলক্ষণ' ও 'অবান্তর লক্ষণ'। নিম্নে পাঠ্যবইয়ের আলোকে এদের মধ্যকার সম্পর্ক ও পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জাত্যর্থের সাথে সম্পর্ক: সাহানার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি ও জীববৃত্তি নিঃসৃত গুণাবলি (জ্ঞান, ক্ষুধা নিবারণ ইত্যাদি), যা 'উপলক্ষণ'। উপলক্ষণ জাত্যর্থ না হলেও জাত্যর্থ থেকেই অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। অপরদিকে সাবিনার বক্তব্যে পহেলা বৈশাখের পোশাক পরিধান, সাজসজ্জা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার খাওয়ার মতো প্রথাগত দিক উঠে এসেছে, যা মানুষের মূল স্বভাবের সাথে অনিবার্যভাবে যুক্ত নয়। এটি হলো 'অবান্তর লক্ষণ'। অবান্তর লক্ষণ জাত্যর্থের অংশও নয় এবং জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও হয় না।

    ২. পরিবর্তনশীলতা ও আবশ্যকতা: উপলক্ষণ একটি জাতির সকল সদস্যের মধ্যে অনিবার্যভাবে উপস্থিত থাকে (যেমন- যুক্তিচিন্তা করার ক্ষমতা)। কিন্তু সাবিনার বর্ণিত অবান্তর লক্ষণসমূহ ব্যক্তি বা সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে; যেমন- পহেলা বৈশাখে রঙিন চুড়ি বা শাড়ি পরা বাধ্যতামূলক বা অপরিবর্তনীয় নয়।

    সুতরাং, উদ্দীপক দুটিতে প্রতিফলিত উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণ উভয়েই মূল জাত্যর্থ-বহির্ভূত গুণ হওয়া সত্ত্বেও একটি (উপলক্ষণ) জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃত অনিবার্য গুণ এবং অন্যটি (অবান্তর লক্ষণ) সম্পূর্ণ আকস্মিক ও পরিবর্তনশীল গুণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন