কৃষিশিক্ষা • কৃষি উপকরণ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

আবিদা পড়াশুনার পাশাপাশি মুরগির খামার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে । এ জন্য সে ৫০টি লেয়ার মুরগির বাচ্চা ক্রয় করে পালন শুরু করে এবং নিম্নের তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেহ খাবার সরবরাহ করে। কৃষি বিষয়ক শিক্ষক সেলিম সাহেবের পরামর্শ নিলে তিনি তাকে সুষম খাদ্য ও সঠিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন। কেননা সুষম খাদ্য ও সঠিক ব্যবস্থাপনা ব্যতীত ভালো উৎপাদন আশা করা যায় না ।

  1. ক)

    হ্যাচারি ঘর কী?

    (1)
  2. খ)

    হাঁস-মুরগিকে সুষম খাদ্য প্রদানের একটি উদ্দেশ্য বর্ণনা করো ।

    (2)
  3. গ)

    আবিদার খামারের ৪র্থ সপ্তাহ বয়সের বাচ্চাগুলোর ৭ দিনের খাবারের পরিমাণ নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সেলিম সাহেবের পরামর্শ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে ঘরে ইনকিউবেটরের সাহায্যে বীজ ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হয়, তাকে হ্যাচারি ঘর বলে।

  2. খ)

    হাঁস-মুরগিকে সুষম খাদ্য দেওয়ার একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও পানি পরিমিত থাকায় পাখির দেহের কোষের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি হয়, হাড় গঠিত হয় এবং ডিম ও মাংস উৎপাদন বাড়ে। এছাড়া এটি পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

  3. গ)

    আবিদা ৫০টি লেয়ার (ডিমপাড়া) মুরগির বাচ্চা পালন করেন। পাঠ্যবইয়ের খাদ্য গ্রহণের তালিকা অনুযায়ী ডিমপাড়া মুরগির বাচ্চা চতুর্থ সপ্তাহে দৈনিক ৩০ গ্রাম খাদ্য গ্রহণ করে।

    একটি বাচ্চার ১ দিনের খাদ্য = ৩০ গ্রাম

    ৫০টি বাচ্চার ১ দিনের খাদ্য = ৫০×৩০৫০ \times ৩০ গ্রাম = ১৫০০ গ্রাম

    ৭ দিনের খাদ্য = ১৫০০×৭১৫০০ \times ৭ গ্রাম = ১০৫০০ গ্রাম = ১০.৫ কেজি

    অতএব, আবিদার খামারের ৪র্থ সপ্তাহ বয়সের বাচ্চাগুলোর ৭ দিনের জন্য ১০.৫ কেজি খাদ্য প্রয়োজন।

  4. ঘ)

    কৃষি শিক্ষক সেলিম সাহেবের পরামর্শ, অর্থাৎ সুষম খাদ্য ও সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া ভালো উৎপাদন আশা করা যায় না, পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত।

    আবিদা ৫০টি লেয়ার মুরগির বাচ্চা পালন শুরু করেছে। লাভজনক খামারের জন্য সুষম রেশন ও খামার ব্যবস্থাপনা দুটিই জরুরি।

    ১. সুষম খাদ্যের গুরুত্ব: যে রেশনে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও পানি পরিমিত থাকে, তাকে সুষম রেশন বলে। এটি পাখিকে বাঁচিয়ে রাখে, শক্তি জোগায়, দেহের বৃদ্ধি ও হাড় গঠনে সাহায্য করে, ক্ষয়পূরণ করে, রোগ প্রতিরোধ করে এবং ডিম ও মাংস উৎপাদন বাড়ায়। খাদ্যের এসব উপাদান গম, ভুট্টা, চালের কুঁড়া, খৈল, শুঁটকি মাছের গুঁড়া, ঝিনুকের গুঁড়া, শাকসবজি ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায়।

    ২. বয়সভেদে রেশন: লেয়ার মুরগিকে ০-৮ সপ্তাহ পর্যন্ত স্টার্টার রেশন, ৯-১৯ সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ন্ত মুরগির রেশন এবং ২০-৭২ সপ্তাহ পর্যন্ত ডিমপাড়া মুরগির রেশন দিতে হয়। বয়স বাড়ার সাথে দৈনিক খাদ্যের পরিমাণও বাড়ে, যেমন চতুর্থ সপ্তাহে ৩০ গ্রাম ও পূর্ণ বয়সে ১১৫ গ্রাম। আবিদাকে এ তালিকা মেনে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

    ৩. স্বাস্থ্য ও ঘর ব্যবস্থাপনা: সুস্থ বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করা, ঘর উঁচু ও শুকনা স্থানে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা করে তৈরি করা, বায়ু চলাচল ও লিটার শুকনা রাখা, খাদ্য ও পানির পাত্র পরিষ্কার রাখা এবং লেয়ারের জন্য নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি মানা প্রয়োজন। কারণ চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধই শ্রেয়।

    ৪. ফলাফল: সুষম খাদ্য ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে মৃত্যুহার কমে, বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং ডিমের উৎপাদন বাড়ে। ফলে খামার লাভজনক হয়। অন্যথায় রোগ ও কম উৎপাদনে লোকসান হতে পারে।

    সুতরাং, সেলিম সাহেবের পরামর্শ অনুসরণ করলে আবিদার মুরগির খামার সফল ও লাভজনক হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন