বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রামী কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে চিত্র-১ এর “?" চিহ্নিত স্থানটিতে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন জনপদের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক চিত্র-২ এর “?" চিহ্নিত স্থানটিতে যে জনপদের নাম বসবে তা ছিল প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ জনপদ-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম বরিশাল। বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল এর মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- খ)
বাংলাদেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হলেও ঋতুবৈচিত্র্যের কারণে প্রায়ই ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে নিরন্তর লড়াই করে বাঁচতে হয় বলে এদেশের মানুষ সংগ্রামী হয়ে উঠেছে।
- গ)
চিত্র-১-এর '?' চিহ্নিত স্থানের উত্তরে শশাঙ্ক, পশ্চিমে কর্ণসুবর্ণ এবং পূর্বে মুর্শিদাবাদ। শশাঙ্ককে সপ্তম শতকে গৌড়রাজ বলা হতো এবং গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ, যা বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত। অতএব এখানে প্রাচীন বাংলার গৌড় জনপদের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় জনপদ গড়ে ওঠে, পরে এটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে পরিচিতি পায়। সপ্তম শতকে শশাঙ্ক গৌড়ের রাজা ছিলেন। বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।
- ঘ)
চিত্র-২-এর '?' চিহ্নিত স্থানের উত্তরে বগুড়া, পশ্চিমে রংপুর ও পূর্বে দিনাজপুর। এ এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত জনপদটি পুণ্ড্র। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।
১. বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ জনপদ গড়ে উঠেছিল। এর রাজধানী পুণ্ড্রনগর পরে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়।
২. মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। এখানকার নিদর্শনসমূহ উন্নত নগরজীবনের সাক্ষ্য দেয়।
৩. এখানে পাথরের চাকতিতে খোদাই করা মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাচীনতম শিলালিপি বলে ধারণা করা হয়।সুতরাং, প্রত্ননিদর্শন ও নগরসভ্যতার বিচারে পুণ্ড্র প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও