হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

শুভজিত মেডিকেলের একজন মেধারী ছাত্র। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ধর্মীয় সংগঠনের সাথে জড়িত। মেডিকেলের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় তার সংগঠন থেকে ধর্মপ্রচারণার কাজে ডাক পেল। সে মেডিকেলের - পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে ধর্ম প্রচারের কাজে অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে সুমন বাবু এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয় এবং একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাছাড়া এলাকার নারীদের জন্য একটি কুটির শিল্পও প্রতিষ্ঠা করেন।

  1. ক)

    বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর পিতার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    সত্যই সকল ধর্মের ভিত্তি'- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    শুভজিতের মধ্যে কোন মহাপুরুষের আচরণিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'নারী জাগরণে সুমন বাবুর অবদান স্বামী বিবেকানন্দের অবদানের অনুরূপ'- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর পিতার নাম আনন্দকিশোর গোস্বামী।

  2. খ)

    সত্য মানে যা যথার্থ ও অপরিবর্তনীয়। সত্যকে আশ্রয় না করলে কোনো ধর্ম টেকে না। সৎ হওয়া এবং সৎ কর্ম করা ধর্মের অঙ্গ।
    স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন, সব ধর্মেরই ভিত্তি এক এবং তা হলো সত্য। অথর্ববেদের মতে, অসত্য নয়, সত্যেরই জয় হয় এবং সত্যের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর লাভের পথ প্রসারিত হয়।

  3. গ)

    শুভজিতের মধ্যে মহাপুরুষ শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর আচরণিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।

    বিজয়কৃষ্ণ ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপের শান্তিপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আনন্দকিশোর গোস্বামী ও মাতা স্বর্ণময়ী দেবী। তিনি সংস্কৃত কলেজে পড়ার পর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখানে 'হিতসঞ্চারিণী' সভা স্থাপন করে জাতিভেদের চিহ্ন পৈতা ত্যাগের আহ্বান জানান।

    মিল: মেডিকেল কলেজে বিজয়কৃষ্ণের চূড়ান্ত পরীক্ষা সামনে, তখন ব্রাহ্মসমাজ থেকে ধর্ম প্রচারের ডাক আসে। উজ্জ্বল চিকিৎসক জীবনের কথা না ভেবে তিনি ধর্ম প্রচারের দায়িত্ব নেন। তিনি ঢাকা, বরিশাল, যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্ম প্রচার করেন। উদ্দীপকের শুভজিতও মেধাবী মেডিকেল ছাত্র, পরীক্ষার সময় সংগঠনের ধর্ম প্রচারের ডাক পেয়ে পরীক্ষা না দিয়ে ধর্ম প্রচারে অংশ নেয়। তাই দুজনের আচরণ একই রকম।

  4. ঘ)

    মন্তব্যটি আংশিকভাবে যথার্থ। সুমন বাবু বালিকা বিদ্যালয়, মহিলা কলেজ ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠা করে নারী জাগরণে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা স্বামী বিবেকানন্দের নারী-স্বাধীনতা ও শিক্ষার আদর্শের সাথে মেলে। তবে বিবেকানন্দের অবদানের পরিধি আরও বিস্তৃত।

    স্বামী বিবেকানন্দ (নরেন্দ্রনাথ দত্ত, জন্ম ১৮৬৩) নারী-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং নারীশিক্ষাকে সর্বান্তঃকরণে সমর্থন করতেন। তাঁর মতে যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না।

    ১. নারীশিক্ষায় মিল: বিবেকানন্দ বৈদিক যুগের মৈত্রেয়ী, গার্গীর উদাহরণ দিয়ে নারীশিক্ষার পক্ষে বলেছেন। সুমন বাবুও বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজ স্থাপন করে নারীদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন।
    ২. স্বাবলম্বিতা: বিবেকানন্দ বিধবাদের শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করার কথা বলেছেন এবং বলেছেন, যে শিক্ষা নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখায় সেটিই শিক্ষা। সুমন বাবুর কুটির শিল্প নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে, যা এ আদর্শের প্রতিফলন।
    ৩. আধ্যাত্মিক সুযোগ: বিবেকানন্দ নারীদের জন্য সারদাদেবীর পরিচালনায় একটি মঠ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন, যা নারীর আধ্যাত্মিক সাধনার সুযোগের কথা ভাবা। উদ্দীপকে এ দিকটি নেই।
    ৪. সীমাবদ্ধতা: বিবেকানন্দ সমাজ সংস্কার, বাল্যবিবাহের বিরোধিতা, জাতিভেদ দূর করা, রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বধর্ম সম্মেলনে হিন্দুধর্ম তুলে ধরার মতো ব্যাপক কাজ করেছেন। সুমন বাবুর কাজ কেবল স্থানীয় ও নারী উন্নয়নকেন্দ্রিক।

    সুতরাং, নারী জাগরণের ক্ষেত্রে সুমন বাবুর অবদান বিবেকানন্দের আদর্শের অনুরূপ, কিন্তু বিবেকানন্দের সামগ্রিক অবদানের সাথে পুরোপুরি সমান নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন