ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

ফারদিন ও ফারজানা দু'ভাই-বোন। ফারদিন দীনি ইলম অর্জন করার জন্য ঢাকার একটি বিখ্যাত আলীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হতে আগ্রহী। সে কুরআন, হাদিস ও ফিকহসহ যাবতীয় জ্ঞান অর্জন করে দেশের মানুষের সেবা করতে চায়। পক্ষান্তরে ফারজানা চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশের অসহায়, হতদরিদ্র মানুষ ও দেশের সার্বিক কল্যাণে কাজ করতে চান।

  1. ক)

    ইবাদত কাকে বলে

    (1)
  2. খ)

    জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ এক নয়- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    ফারদিন কোন ধরনের জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী? মানবজীবনে এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ফারদিন ও ফারজানার জ্ঞানার্জনের বিষয় ভিন্ন হলেও তাদের উদ্দেশ্য এক অভিন্ন- বক্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে যে কাজ করা হয়, তাকে ইবাদত বলে।

  2. খ)

    জিহাদ অর্থ আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম, যার লক্ষ্য ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জুলুম দূর করা। এটি নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে পরিচালিত হয়, যেখানে নারী, শিশু ও নিরীহ মানুষকে হত্যা নিষিদ্ধ। অপরদিকে সন্ত্রাসবাদ হলো ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে নিরীহ মানুষের জীবন ও সম্পদ ধ্বংস করা, যা ইসলামে হারাম। তাই জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদ এক নয়।

  3. গ)

    ফারদিন দীনি জ্ঞান (ইলমে শরিয়ত) অর্জনে আগ্রহী, যেমন কুরআন, হাদিস ও ফিকহ।

    প্রয়োজনীয়তা:
    ১. ইবাদত ও আমল সঠিকভাবে পালন: ইসলামের বিধি-বিধান না জানলে সঠিকভাবে ইবাদত করা যায় না।
    ২. হালাল-হারাম পার্থক্য: দীনি জ্ঞান মানুষকে ভালো-মন্দ চিনতে সাহায্য করে।
    ৩. নৈতিক ও আদর্শ জীবন: এই জ্ঞান চরিত্র গঠন করে এবং মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যের পথে পরিচালিত করে। মহানবি (স) বলেছেন, জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।

  4. ঘ)

    ফারদিন ও ফারজানা ভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে চাইলেও তাদের উদ্দেশ্য অভিন্ন, তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও মানবসেবা।

    ১. জ্ঞানার্জন ফরজ: মহানবি (স) প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জন ফরজ করেছেন। দীনি ইলম ও চিকিৎসা বিজ্ঞান উভয়ই এর অন্তর্ভুক্ত।
    ২. মানুষের কল্যাণ: ফারদিন দীনি জ্ঞান দিয়ে মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে চায়। ফারজানা চিকিৎসা দিয়ে অসহায় মানুষের জীবন বাঁচাতে চান। দুটিই সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফরজে কিফায়ার মতো দায়িত্ব।
    ৩. ইবাদতের মর্যাদা: আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে মানুষের উপকারমূলক সকল কাজ ইবাদত।

    সুতরাং, পথ ভিন্ন হলেও উভয়ের লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দেশের কল্যাণ। তাই বক্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন