ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

ইসলাম প্রশ্ন

নওশাদ একজন তরুণ সমাজসেবক। তিনি একদা তাঁর এলাকায় একটি পাঠাগার স্থাপনকে কেন্দ্র করে দু' পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেধে যাওয়ার উপক্রম হলে তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে একটি, ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়ে অনিবার্য সংঘর্ষ থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করেন। সমাজসেবায় এরূপ ভূমিকা রাখায় এলাকাবাসী তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি জনগণকে রাসুল (স)-এর একটি ঐতিহাসিক ভাষণের মর্মবাণী ধারণ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ ভাষণে রয়েছে বিশ্বমানবতার সার্বিক দিকনির্দেশনা।

  1. ক)

    'মদিনা সনদ' কী?

    (1)
  2. খ)

    'মক্কা বিজয় মহানবি (স)-এর ক্ষমার এক অনন্য উদাহরণ'- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    পাঠাগার স্থাপনে নওশাদের ভূমিকায় মহানবি (স)-এর জীবনদর্শের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনগণের উদ্দেশ্যে নওশাদের পরামর্শের যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হিজরতের পর মদিনায় মুসলমান, ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের জন্য মহানবি (স.) যে লিখিত চুক্তি বা সংবিধান প্রণয়ন করেন, তাকে মদিনা সনদ বলে।

  2. খ)

    মক্কার কুরাইশরা মহানবি (স.) ও সাহাবিদের ওপর দীর্ঘদিন অত্যাচার করেছিল। অথচ ৮ম হিজরিতে বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করে তিনি তাদের প্রতি কোনো প্রতিশোধ নেননি। তিনি ঘোষণা করলেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা মুক্ত। এই সাধারণ ক্ষমার ফলে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। তাই মক্কা বিজয় তাঁর ক্ষমার অনন্য উদাহরণ।

  3. গ)

    পাঠাগার স্থাপনে নওশাদের ভূমিকায় মহানবি (স.)-এর সালিশি মীমাংসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে। কাবা পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদ কে স্থাপন করবে, তা নিয়ে কুরাইশ গোত্রগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের উপক্রম হয়। তখন মহানবি (স.) একটি চাদরে পাথরটি রেখে প্রত্যেক গোত্রপ্রধানকে চাদরের কোণ ধরে তুলতে বলেন এবং নিজে পাথরটি যথাস্থানে বসান। এভাবে সবার সন্তুষ্টিতে সংঘর্ষ এড়ানো যায়। নওশাদও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়ে সংঘর্ষ থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করেছেন।

  4. ঘ)

    নওশাদ বিদায় হজের ভাষণের কথা বলেছেন। তাঁর পরামর্শ যথার্থ। কারণ:
    ১. এই ভাষণে মহানবি (স.) মানুষের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা ঘোষণা করেছেন।
    ২. তিনি বলেছেন, সব মানুষ সমান; আরবের ওপর অনারবের বা অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তাকওয়াই শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড। তিনি নারীর অধিকার রক্ষা, দাস-দাসীর প্রতি সদাচরণ এবং সুদ ও জাহিলি যুগের রক্তের প্রতিশোধ রহিত করার নির্দেশ দেন।
    ৩. তিনি কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার উপদেশ দেন, যা মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করে।

    সুতরাং, এ ভাষণ সার্বজনীন মানবাধিকারের সনদ, তাই নওশাদের পরামর্শ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন