জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
প্লাসমোডেসমাটা কী?
- খ)(2)
E. coli একটি আদিকোষী অণুজীব ——ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রদর্শিত অণুটি থেকে কীভাবে নতুন ‘অণু সৃষ্টি হয়, বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রদর্শিত অণুটির গঠনগত পরিবর্তন করে তা মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যায়— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাশাপাশি অবস্থিত দুটি উদ্ভিদকোষের কোষপ্রাচীরের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথে সাইটোপ্লাজমের যে সংযোগসূত্র গঠিত হয়, তাকে প্লাজমোডেজমাটা (Plasmodesmata) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
E. coli (Escherichia coli) একটি আদিকোষী বা প্রোক্যারিওটিক অণুজীব, কারণ এর কোষে সুগঠিত কোনো নিউক্লিয়াস নেই। অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাস অনুপস্থিত এবং ক্রোমোজোমে হিস্টোন প্রোটিন থাকে না; এতে কেবল একটি বৃত্তাকার নগ্ন দ্বি-সূত্রক DNA বিদ্যমান থাকে। এছাড়া এদের সাইটোপ্লাজমে রাইবোসোম (70S) ব্যতীত কোনো ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু (যেমন: মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম) থাকে না। তাই E. coli একটি আদিকোষী অণুজীব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত অণুটি হলো ডিএনএ (DNA)। ডিএনএ থেকে নতুন ডিএনএ অণু সৃষ্টির প্রক্রিয়াটিকে ডিএনএ প্রতিলিপন বা রেপ্লিকেশন (DNA replication) বলে। এটি মূলত অর্ধ-সংরক্ষণশীল (Semi-conservative) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।
প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
১. প্রারম্ভিক দশা: হেলিকেজ (Helicase) এনজাইমের প্রভাবে ডিএনএ দ্বি-সূত্রের হাইড্রোজেন বন্ধনগুলো ভেঙে যায় এবং সূত্র দুটি পৃথক হয়ে রেপ্লিকেশন ফর্ক সৃষ্টি করে।
২. প্রাইমার সংযোজন: আরএনএ প্রাইমেজ এনজাইম মাতৃ ডিএনএ সূত্রের নির্দিষ্ট স্থানে একটি ক্ষুদ্র আরএনএ প্রাইমার যুক্ত করে।
৩. নতুন সূত্র তৈরি: ডিএনএ পলিমারেজ (DNA polymerase) এনজাইম মুক্ত নিউক্লিওটাইড এনে মাতৃ সূত্রের পরিপূরক নতুন সূত্র তৈরি করতে শুরু করে। মাতৃ সূত্রের ৫'→৩' অভিমুখী সূত্রটিতে নতুন সূত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে গঠিত হয়, যাকে লিডিং সূত্র বলে। অপর সূত্রে নতুন সূত্র খণ্ডে খণ্ডে (ওকাজাকি খণ্ড) গঠিত হয়, যাকে ল্যাগিং সূত্র বলে।
৪. সমাপ্তি: পরবর্তীতে ডিএনএ পলিমারেজ দ্বারা প্রাইমার অপসারিত হয় এবং ডিএনএ লাইগেজ (DNA ligase) এনজাইম ওকাজাকি খণ্ডগুলোকে জোড়া দেয়।ফলস্বরূপ, প্রতিটি নতুন সৃষ্ট ডিএনএ অণুর একটি সূত্র পুরাতন মাতৃকোষের এবং অপরটি নতুন সংশ্লেষিত হয়। এভাবে উদ্দীপকের ডিএনএ থেকে নতুন ডিএনএ অণু সৃষ্টি হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত অণুটি হলো DNA। ডিএনএ অণুর গঠনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে তা মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যায়— উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ এবং এটি রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মূল ভিত্তি।
ডিএনএ-এর গঠনগত পরিবর্তন মানবকল্যাণে যেভাবে ভূমিকা রাখে:
১. চিকিৎসাক্ষেত্রে ও ঔষধ তৈরিতে: মানবদেহের ইনসুলিন তৈরির জিন রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিডে প্রবেশ করিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বৃহৎ পরিসরে মানব ইনসুলিন তৈরি করা হচ্ছে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ইন্টারফেরন, হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন, গ্রোথ হরমোন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
২. জিন থেরাপি: বংশগত বা জিনগত ত্রুটি দূরীকরণে ক্ষতিকর জিনের স্থানে কার্যকর স্বাভাবিক ডিএনএ প্রতিস্থাপন করে বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময় করা সম্ভব হচ্ছে।
৩. কৃষিক্ষেত্রে ও খাদ্য নিরাপত্তায়: ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও রোগ প্রতিরোধী ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ (যেমন: বিটি কটন, বিটি বেগুন) সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস (Golden Rice) উদ্ভাবন মানবজাতির পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে অবদান রাখছে।
৪. শিল্প ও পরিবেশ সুরক্ষায়: জেনেটিক্যালি মডিফাইড ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে জৈববর্জ্য ও তেল দূষণ দ্রুত বিনষ্ট করে পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে।সুতরাং, ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মাধ্যমে জিন প্রকৌশল মানবজাতির স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও