পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
সময়টা চৈত্র মাস। তখনও আমের মৌসুম শুরু হয়নি। মি. 'Y' একদিন আমের দোকানে পাকা রঙের আম দেখে কিছু সংখ্যক আম কিনে আনেন। আম খাওয়ার পর পরিবারের কয়েকজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে ভর্তি পর চিকিৎসক জানান যে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
- ক)(1)
বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী কাকে বলে?
- খ)(2)
জলবায়ু পরিবর্তন কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি তোমার পঠিত কোন নাগরিক সমস্যাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত সমস্যা সমাধানে নাগরিকদের করণীয় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক বা সামাজিক বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনে যাদের বিশেষ যত্ন ও সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয়, তাদের বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলবায়ু পরিবর্তন বলতে দীর্ঘ সময় ধরে (সাধারণত কয়েক দশক বা তার বেশি) কোনো অঞ্চল বা সমগ্র পৃথিবীর সামগ্রিক আবহাওয়া ও জলবায়ুর স্বাভাবিক অবস্থার লক্ষণীয় ও স্থায়ী পরিবর্তনকে বোঝায়। প্রাকৃতিক কারণ ছাড়াও মূলত মানুষের তৈরি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে, বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের মূল বহিঃপ্রকাশ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি আমাদের পঠিত নাগরিক সমস্যা 'খাদ্যে ভেজাল' বা 'রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ'-কে নির্দেশ করে।
অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় মৌসুমের আগেই কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ (যেমন কার্বাইড বা অন্যান্য কেমিক্যাল) ব্যবহার করে ফলমূল অপরিপক্ব অবস্থায় পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করে। এই রাসায়নিক বিষাক্ত উপাদান মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চৈত্র মাসে আমের মৌসুম না হওয়া সত্ত্বেও মি. 'Y' কৃত্রিমভাবে পাকানো আম ক্রয় করে পরিবারের সদস্যদের খাওয়ান। ফলস্বরূপ বিষক্রিয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগের কারণে ঘটে যাওয়া এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মূলত আমাদের সমাজের অন্যতম গুরুতর নাগরিক সমস্যা 'খাদ্যে ভেজাল'-এর বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত খাদ্যে ভেজালের মতো নাগরিক সমস্যা সমাধানে নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় পদক্ষেপই পারে এ ধরনের অপরাধের বিস্তার রোধ করতে।
খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে নাগরিকদের নিম্নলিখিত দায়িত্বগুলো পালন করা উচিত:
১. সচেতনতা বৃদ্ধি: অসময়ে বা কৃত্রিমভাবে পাকানো লোভনীয় ফলমূল ও ভেজাল খাদ্য কেনা থেকে বিরত থাকা এবং এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করা।
২. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রয়োগ: কোনো পণ্যে ভেজালের প্রমাণ পেলে তা সহ্য না করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনগত অভিযোগ দায়ের করা।
৩. সামাজিক প্রতিরোধ ও মনিটরিং: অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এলাকায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং নিরাপদ খাদ্যের দাবিতে সামাজিক আন্দোলন তৈরি করা।
৪. ব্যবসায়ীদের নৈতিকতাবোধ: যারা ব্যবসায়ের সাথে জড়িত, সেইসব নাগরিকের নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রেখে রাসায়নিক ও বিষাক্ত সামগ্রী বিক্রি থেকে বিরত থাকা।সুতরাং, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজ হিসেবে নিজেদের অধিকার রক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এ ব্যাধি দূর করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও