পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি সদ্য স্বাধীন দেশ। ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা সূত্র ধরে 'খ' ও 'গ' নামের দুটি প্রদেশ নিয়ে দেশটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু 'খ' প্রদেশে একটি রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এ আন্দোলনে 'খ' প্রদেশের জনগণের মধ্যে নতুন জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায়।
- ক)(1)
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলকথা কী?
- খ)(2)
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের তাৎপর্য কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলকথা হলো—ভারতে হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র জাতি, তাই তাদের জন্য দুটি পৃথক আবাসভূমি বা রাষ্ট্র গঠন আবশ্যক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই বিজয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠী মুসলিম লীগের আধিপত্য ও দুঃশাসনের অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয় সূচিত হয়। একই সাথে এটি ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের স্বায়ত্তশাসনের দাবি ও স্বাধিকার চেতনার এক ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের মিল রয়েছে।
১৯৪৭ সালে ধর্মীয় দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান গঠিত হয়। কিন্তু সৃষ্টির পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আঘাত হানে। তারা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চাইলে বাঙালিরা রাজপথে নেমে আসে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তের বিনিময়ে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার সূত্রে গঠিত দেশের 'খ' প্রদেশে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং তার মধ্য দিয়ে নতুন জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঠিক একইভাবে পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তার মাধ্যমে ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশকে প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলেও বাঙালি বুঝতে পারে কেবল ধর্মীয় বন্ধন একটি আধুনিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে না। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল পাকিস্তানের অন্যায্য ঔপনিবেশিক নীতির বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রথম প্রত্যক্ষ রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ। এ আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের অবসান ঘটে এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
ভাষা আন্দোলনের চেতনা পরবর্তীতে ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সুতরাং, রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রথম বাস্তব ভিত্তিপ্রস্তর ভাষা আন্দোলনেই স্থাপিত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও